‘জোড়াফুল হয়ে গেল পদ্মফুল’-দলবদলের পরেই কোয়েলকে নিয়ে নেটপাড়ায় ঝড়, কী বলছে নেটিজেনরা?

রবিবারই জল্পনা উস্কে ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। আর সেই জল্পনাই সত্যি করে সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করলেন ‘টলি কুইন’। নিজের ছেড়ে দেওয়া আসনেই এবার বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হচ্ছেন অভিনেত্রী, কেবল বদলে গেল রাজনৈতিক দলের রঙ। অভিনয়ের পাশাপাশি খুব অল্প সময়েই রাজনীতিতে এই দলবদল করে খবরের শিরোনামে চলে এলেন তিনি। আর রাজ্য বিজেপির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে তাঁর যোগদানের ছবি পোস্ট হতেই টলিউড সুন্দরীর দিকে ধেয়ে এল একের পর এক কটাক্ষ ও ট্রোল।
এদিন হালকা পিচ রঙের শাড়ি, সাধারণ মেকআপ, খোলা চুল ও কপালে ছোট্ট টিপে একেবারে ছিমছাম লুকে রাজ্য বিজেপি দফতরে হাজির হন কোয়েল। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে ও হাতে পতাকা তুলে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তবে এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, এত পুরনো ও ত্যাগী কর্মীরা থাকতে কেন একজন হেভিওয়েট তারকাকে প্রার্থী করা হলো? কেউ তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, “রাতারাতি জোড়াফুল হয়ে গেল পদ্মফুল আর সাধারণ মানুষ হলো এপ্রিল ফুল!” আবার কারও মন্তব্য, “টিএমসি-তে তো কিছু করতে পারল না, তাই এবার বিজেপিতে এল!” কেউ আবার ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “কোয়েল পাখি এবার বিজেপির ডালে” কিংবা “ছিল রুমাল, হয়ে গেল বিড়াল!”
চলতি বছরের রথযাত্রার দিনই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কোয়েল মল্লিক। এর আগে চলতি বছরেই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার জন্য মনোনীত করেছিল এবং গত ৬ এপ্রিল তিনি শপথও নেন। তবে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর সংসদীয় জীবন ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। শপথ নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় জুলাই মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই তাঁর এই পদত্যাগ ব্যাপক জল্পনা তৈরি করেছিল। বিশেষ করে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পরই পদ্মশিবিরে তাঁর যোগদানের গুঞ্জন জোরালো হয়।
কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিক বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রথম সারির নায়িকা। জিৎ, দেব, হিরণ থেকে শুরু করে বহু নায়কের বিপরীতে কমার্শিয়াল ছবিতে বক্স অফিস কাঁপিয়েছেন তিনি। সাধারণত নিজেকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন এই ‘টলি কুইন’। শেষ তাঁকে পর্দায় ‘স্বার্থপর’ ছবিতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ‘স্পর্ধা’ ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো কাজ। রাজনীতির ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করলেও তিনি যে অভিনয় জীবনও সমান্তরালে চালিয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য।