‘আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়?’ স্কুল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ আজ রূপ নিয়েছে জাতীয় আন্দোলনে, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

একসময় যে ফ্রান্সকে শিক্ষা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের সূতিকাগার বলা হতো, আজ সেই দেশের শিক্ষাঙ্গন ও রাজপথ উত্তপ্ত ছাত্র বিক্ষোভে। গত দুই দশক বা শতাব্দীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ছাত্র আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স। স্কুলের গেট আটকে বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে এক ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ হাইস্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ১০০০-এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে রাজধানী প্যারিস সহ গোটা দেশ।পরিস্থিতি এতটাই বেসামাল হয়েছে যে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় ৫০০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৬০০-র বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান ক্ষোভের কারণ হলো শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সেকেন্ডারি স্কুলগুলিতে প্রায় ১০ শতাংশ ক্লাসের সময় শিক্ষক সংকটের কারণে নষ্ট হয়েছে। অনেক ক্লাসরুমে ৩০-এর বেশি ছাত্রছাত্রী গাদাগাদি করে বসছে, অন্যদিকে জীর্ণ ও গরমে অবরুদ্ধ পরিকাঠামোয় পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আন্দোলন শুধু ক্লাসরুমের চারলোকীয় সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; জেন-জি প্রজন্মের এই ক্ষোভের শেকড় অনেক গভীরে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাকরির অনিশ্চয়তা, উচ্চশিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষার অভাব তরুণ সমাজকে ফুঁসিয়ে তুলেছে।
তবে এই ছাত্র আন্দোলন এখন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নেই। বহু জায়গায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ এবং এমনকি স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে ঢুকে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবেস্তিয়ান লিকार्नू জরুরি সংকট বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকারের আশঙ্কা, কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী এবং ইসলামিক চরমপন্থীরা এই ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তোলার চেষ্টা করছে। আগামী বছর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ফরাসি রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।