৫০ হাজার যাত্রীর চাপ কমাতে আসছে ৪৬৭ কোটির তৃতীয় লাইন! কামাখ্যা-গুয়াহাটি রেল যোগাযোগে যুগান্তকারী বদল

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। বর্তমান সময়ে গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিদিন ৫০,০০০ থেকে শুরু করে ব্যস্ততম সময়ে প্রায় ৬৫,০০০ যাত্রীর যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং প্রতিদিন ২০০টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করে। এই বিপুল চাপ সামলাতে এবং পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুয়াহাটি ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে চলছে একাধিক যুগান্তকারী উন্নয়নমূলক কাজ। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ৪৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫.৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কামাখ্যা-গুয়াহাটি তৃতীয় লাইন প্রকল্প, যা ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াতের গতি বাড়ার পাশাপাশি লাইন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমবে।

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চাপ কমাতে ১৪৭৪ কোটি টাকা খরচে তৈরি হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত আগিয়াঠুরি-কamaখ্যা ডাবল লাইন এবং দ্বিতীয় সরাইঘাট রেল-কাম-রোড ব্রিজ। ১.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বিতীয় সরাইঘাটে ডাবল-লাইন রেল ট্র্যাকের পাশাপাশি থাকছে তিন লেনের চওড়া রাস্তা, যা উত্তর ও দক্ষিণ গুয়াহাটির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি, ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নিউ গুয়াহাটিতে গড়ে উঠছে একটি অত্যাধুনিক মেগা কোচিং কমপ্লেক্স, যেখানে ৩টি পিট লাইন, ৪টি স্টেবলিং লাইন এবং ২টি অটোমেটিক কোচ-ওয়াশিং প্ল্যান্টের মাধ্যমে ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও ঝকঝকে ও দ্রুত হবে। অন্যদিকে, গ্রিন-বিল্ডিং ধারণার ভিত্তিতে গুয়াহাটি স্টেশনকে আইটি পার্কসহ একটি আধুনিক হাব হিসেবে রূপান্তর করা হচ্ছে, যেখানে যাত্রীদের জন্য তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় প্রবেশপথ।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এক অনন্য নজির গড়ছে রেল। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কামাখ্যা-আজারা এলিভেটেড করিডোর এবং বিখ্যাত দীপ বিলের ওপর উঁচু ভায়াডাক্ট বা উড়ালপথ নির্মাণ করা হচ্ছে, যা বন্যহাতিদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের পথ সুগম করবে। এর পাশাপাশি, লজিস্টিকস ও পণ্য পরিবহনের পরিকাঠামো মজবুত করতে বাইহাটা এবং যোগীঘোপার মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস পার্কে (MMLP) কার্গো টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে, পরিকাঠামোর এই অভাবনীয় রূপান্তর উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দিতে চলেছে।