পুজোর মুখেই মারাত্মক ধাক্কা! সিকিম-কালিম্পংগামী পর্যটকদের জন্য এল চরম দুঃসংবাদ

উৎসবের মরশুম শুরু হতেই স্কুল-কলেজে ছুটির আমেজ। ব্যাগ গুছিয়ে উত্তরবঙ্গ বা সিকিমের পাহারঘেরা অফবিট ডেস্টিনেশনে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন অনেকেই। ট্রেনের কনফার্ম টিকিট থেকে শুরু করে হোটেল বুকিং—সবই পাকা। কিন্তু এই খুশির মাঝেই পর্যটকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে এক বিরাট দুঃসংবাদ সামনে এল। দুর্গোৎসবের ঠিক আগে আগামী পঞ্চমী পর্যন্ত রাতের দিকে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে সিকিম ও কালিম্পংয়ের যোগাযোগের প্রধান জীবনরেখা—১০ নম্বর জাতীয় সড়ক।

১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কেন বন্ধ রাখা হচ্ছে?

শিলিগুড়ির সঙ্গে কালিম্পং এবং প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র মূল ধমনি হলো এই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এই রাস্তার সেবক থেকে রংপো অংশটি কালিম্পং জেলার আওতাধীন। একদিকে পাহাড়ি খাদ আর অন্যদিকে গর্জনশীল তিস্তা নদী—এই দুইয়ের বুক চিরে চলা এই রাস্তায় লাগাতার ধস নামা এবং বোল্ডার পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়।

বর্তমানে এই জাতীয় সড়কের ২৯ মাইল এবং রবিঝোরা অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা ধসে নদী খাদের দিকে বসে যাওয়ার ফলে পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে প্রতিনিয়ত পাথর খসে পড়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন (NHIDCL)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কার করা না হলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কবে থেকে ও কখন বন্ধ থাকবে যাতায়াত?

কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কুহুক ভূষণ জানিয়েছেন, পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে NHIDCL-এর তত্ত্বাবধানে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বুধবার, ৭ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর (পঞ্চমী) পর্যন্ত প্রতি রাতে এই জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

  • সময়সীমা: প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

  • পাহাড়ের গা ঘেঁষে বিপজ্জনক কাজ চলায় রাতে কোনো গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

  • এছাড়া উৎসবের মরশুম মিটতেই আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ফের এই জাতীয় সড়ক বন্ধ রেখে দ্বিতীয় দফার মেরামতের কাজ চলবে।

বিপাকে পর্যটক ও ব্যবসায়ীমহল

পুজোর ঠিক আগে এই রুট বন্ধ থাকায় রাতবিরেতে সিকিম বা কালিম্পংগামী পর্যটকদের দীর্ঘ ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে। এর ফলে যেমন যাতায়াতের সময় অনেকটাই বেশি লাগবে, তেমনই চরম ভোগান্তির শিকার হবেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি, ভরা পর্যটনের মরশুমে এই কড়াকড়ির জেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন স্থানীয় গাড়ি চালক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া যেতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।