পুরুষদের পেছনে ফেলে দেশের মুকুটে সিংহভাগ সোনা! জাপানের মাটিতে ভারতীয় কন্যাদের অদম্য পরাক্রমে কাঁপল বিশ্ব

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। চলতি আসরে ভারত মোট ৮৫টি পদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ। তবে এই সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন হয়ে উঠেছে দেশের নারী শক্তির জয়জয়কার। বিখ্যাত সিনেমা ‘দঙ্গল’-এর সেই জনপ্রিয় সংলাপ—“আমাদের মেয়েরা কি ছেলেদের চেয়ে কোনো অংশে কম?”—আজ জাপানের মাটিতে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হলো। এ বারের গেমসে ভারত যতগুলি স্বর্ণপদক জিতেছে, তার অর্ধেকেরও বেশি এসেছে নারী অ্যাথলিটদের হাত ধরে। মোট ২১টি সোনার মধ্যে একাই ১১টি সোনা ছিনিয়ে নিয়েছেন দেশের লড়াকু মেয়েরা (যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ও মিশ্র ইভেন্ট)।

৪৯৫ জন সদস্যের ভারতীয় দলের মধ্যে ২৩৪ জন মহিলা অ্যাথলিট অংশ নিয়েছিলেন। আর তাঁরা শুধু পদক জিতেই ক্ষান্ত হননি, বরং ক্রীড়াবিশ্বে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মহিলাদের অংশগ্রহণ এখন কেবল সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁরা আজ বিশ্বমঞ্চে প্রকৃত আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নতুন প্রজন্মের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দেওয়া শুরু করেন। তিরন্দাজিতে মাত্র ১৭ বছর বয়সি তরুণী কুমকুম মহোদ দক্ষিণ কোরিয়ার অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ওহ ই-জিনকে পরাজিত করে এক অভাবনীয় অঘটন ঘটান। পাশাপাশি, তরুণ স্কোয়াশ তারকা অনাহাত সিং এবং গলফে চীনের বিশ্ব র‍‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বর তারকা ইন রুওনিংকে হারিয়ে প্রণবী উরসের ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয় দেশের ক্রীড়াজগতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

শুধু তরুণ তুর্কিরাই নন, দেশের অভিজ্ঞ নারী অ্যাথলিটরাও নিজেদের সেরাটা দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। ভারোত্তোলনে রুপো জিতে মীরাবাই চানু দীর্ঘ ২৮ বছরের পদক-খরা কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, বক্সিংয়ে কিংবদন্তি মেরি কমের পর দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা হিসেবে সোনা জিতে অনন্য নজির গড়েছেন লাভলিনা বর্গহাঁই। দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে রিংয়ে ফিরে পারভীন হুডার ‘সোনালী প্রত্যাবর্তন’ কিংবা অসুস্থতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পদক জয়ের ঘটনাগুলো অনুপ্রেরণার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ট্র্যাপ শুটিংয়ের ঠিক আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নীরু ধান্দা কিংবা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর সঙ্গে লড়াই করে লং জাম্পে রুপো জয়ী অ্যান্সি সোজান—প্রত্যেকেই প্রমাণ করেছেন যে মনের জোর থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। এমনকি শৈশবের অন্ধকার ভুলে ৩৬ বছর বয়সে এমএমএ (MMA)-তে ব্রোঞ্জ জয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুচিকা তরিয়াল। বিশ্বের তাবড় ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে যেভাবে ভারতীয় মেয়েরা একের পর এক অসাধ্য সাধন করেছেন, তাতে গোটা দেশ আজ গর্বিত।