অবশেষে বক্সার গভীর জঙ্গলে পা রাখল বাঘিনি! দু’দিন ধরে গেট খোলা থাকলেও কেন বেরোচ্ছিল না সে?

বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভের চিরচেনা পরিবেশ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নতুন ঠিকানায় পা রাখা তিন বছরের সেই বাঘিনি অবশেষে তার কৃত্রিম এনক্লোজারের গণ্ডি পেরিয়ে গভীর বনের অন্দরে প্রবেশ করেছে। গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বক্সার ২.২ হেক্টরের বিশাল প্রাকৃতিক এনক্লোজারের দরজা খুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তবে দরজা খুলে দেওয়ার পরেও প্রথম দুই দিন বাঘিনির মধ্যে বাইরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। নতুন এই মুক্ত পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে সে কখনো গাছের স্নিগ্ধ ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিল, আবার কখনও জলাশয়ে নেমে নিজের গা ভিজিয়ে চারপাশটা শান্তভাবে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল।
অবশেষে সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে এবং চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত হওয়ার পর নিজের ইচ্ছাতেই রবিবার বিকেল ৪টে বেজে ৫০ মিনিটে এনক্লোজারের চৌহদ্দি ছেড়ে বক্সার মূল জঙ্গলের গভীর অরণ্যে প্রবেশ করে। বনদপ্তরের তরফে প্রকাশ করা একটি এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে বাঘিনির এই ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর মুক্তগমনের মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এতদিন বিহারের বাল্মিকীর জঙ্গল তার চেনা থাকায় বক্সার ঘন এবং অপরিচিত প্রকৃতির সঙ্গে ধাতস্থ হতে তার একটু সময় লাগাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ বনকর্তারা। তবে বাঘিনির বর্তমান গতিবিধি ও নিরাপত্তার খাতিরে তার গলায় একটি বিশেষ রেডিও কলার পরানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন বনকর্মী ও ওয়াইল্ডলাইফ বিশেষজ্ঞরা। বক্সার এই নতুন বন্য পরিবেশে বাঘিনির অবাধ বিচরণ রাজ্য তথা দেশের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।