ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘরবন্দি! অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর জখম বিধায়ক বায়রনের অবস্থা এখন কেমন?

পারিবারিক অশান্তির জেরে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। বর্তমানে ধুলিয়ানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ-তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শরীরের প্রায় ৩৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কের শরীরের হাঁটুর নীচের অংশ এবং একটি হাতের কব্জি মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। বর্তমানে তাঁকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে আইসিইউ-তে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে হাসপাতালটিতে বার্ন ইউনিট না থাকায় এবং পরিবারের সঠিক সিদ্ধান্ত না মেলায় তাঁকে অন্য বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছেন তাঁর মেজ ভাই।

ঠিক কী ঘটেছিল?

বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। ভাইদের সঙ্গে মনমালিন্যের জেরে মেজ ভাই কলকাতা ও ছোট ভাই দিল্লিতে চলে যান। পরিবারের কারও সঙ্গেই স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন না বায়রন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে ধুলিয়ানের ডাকবাংলো মোড়ের একটি বিড়ি কারখানার গেস্ট হাউসে গিয়ে ওঠেন।

ঘনিষ্ঠদের দাবি, ওই সময় তাঁর মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁকে একটি ঘরে রাখা হয়েছিল এবং তিনি বেশ কিছু ঘুমের ওষুধও খেয়ে ফেলেছিলেন। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দরজা খোলার জন্য চিৎকার শুরু করলেও বাইরে থেকে কেউ দরজা খোলেননি। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই ঘরটির ভিতর থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। দ্রুত দরজা ভেঙে কারখানার কর্মীরা তাঁকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।

কী বলছে প্রশাসন ও পুলিশ?

আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহল এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধুলিয়ান দমকল দপ্তরের ওসি মুজিবর রহমান জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তসাপেক্ষ।

এদিকে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিং জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ জানতে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) টিমকে তলব করা হয়েছে এবং দমকলের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন নেতৃত্ব।