অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে দেরি হলেই বড় ধাক্কা! এক ধাক্কায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে সরকারি কর্মীরা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ যদি সময়মতো জমা বা কার্যকর না হয়, তবে দেশটির কোটি কোটি সরকারি কর্মীকে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু পে-লেভেলের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ ৩.৩২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন এই পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে এবং কীভাবে এই লোকসান হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা।
কেন হতে পারে এই আর্থিক ক্ষতি? নিয়ম অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর ১৮ মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সুপারিশ জমা না পড়ে, তবে কর্মচারীদের মূল বকেয়া বা এরিয়ারের পরিমাণে সরাসরি প্রভাব পড়বে। কারণ, সরকারি কর্মচারীদের এরিয়ার নির্ধারিত হয় তাঁদের সংশোধিত ও বর্ধিত বেসিক পে-র ওপর। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে দেরি হলে মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) এবং যানবাহন ভাতা (TPTA)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বকেয়া সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন কর্মীরা।
কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে যদি সামান্যও দেরি হয়, তবে সবচেয়ে বেশি লোকসানের শিকার হবেন লেভেল-৭ (Level-7) বা সমমানের কর্মীরা। যেমন:
সুপারিশ যদি ২০২৭ সালের মে, অগাস্ট বা ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর হয়, তবে কর্মীরা যথাক্রমে ১৭ মাস, ২০ মাস ও ২৫ মাসের বকেয়া বা এরিয়ার হাতছাড়া করবেন।
সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন লেভেল-৭ কর্মীর মূল বেতন যেখানে ৪৪,৯০০ টাকা, সেখানে অষ্টম কমিশনের সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১ ধরলে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯৪,২৯০ টাকায়। এর ফলে মাসিক বেসিক পে-র ফারাক থেকেই এক বিশাল অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুসারে, কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর মন্ত্রিগোষ্ঠীর পর্যালোচনা ও সরকারের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। ফলে সঠিক সময়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হলে কর্মীদের পকেট যে বড়সড় কোপের মুখে পড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।