মাঝ আকাশে বিমান হামলার চেষ্টা করা সেই কো-পাইলটের নারীবিদ্বেষী পোস্ট ভাইরাল! হাড়হিম করা তথ্য ফাঁস

মাঝ আকাশে ভারতীয় পাইলটের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় খবরের শিরোনামে আসা ফ্লাইদুবাইয়ের ২৯ বছর বয়সি ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক যেন বেড়েই চলেছে। বিমানের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার চেষ্টার অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা এই পাইলটের বেশ কিছু পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর ডিলিট করা হাজার হাজার পোস্টে মহিলাদের পোশাক, চাকরি এবং পুরুষ-মহিলার একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল ও নারীবিদ্বেষী মতামত প্রকাশ করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম আল-হাম্মামির ২০২১ ও ২০২২ সালের প্রায় ৩,০০০টি পুরনো ও ডিলিট করা পোস্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। ওই পোস্টগুলিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছিল যে, মহিলাদের বিয়ের পর চাকরি করা উচিত নয় এবং তাঁদের সবসময় নিকাব পরা বাধ্যতামূলক। একটি পোস্টে তিনি এমন পাত্রী খোঁজার কথা লিখেছিলেন, যিনি নিকাব পরবেন এবং বিয়ের পর চাকরি করবেন না। শুধু তাই নয়, মিশ্র লিঙ্গের কর্মক্ষেত্রে কাজ করলে ধর্মীয় মহিলারা ‘নষ্ট’ হয়ে যেতে পারেন—এমন কট্টর ও আপত্তিকর মন্তব্যও তাঁর পুরনো অ্যাকাউন্টে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত পোস্টের সত্যতা এবং সেগুলির সবকটি তাঁরই লেখা কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত নন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে (FZ1073) মারাত্মক কাণ্ড ঘটে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটিকে হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের নিচে নামিয়ে আনার সময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন এই ওমানি কো-পাইলট। শেষ পর্যন্ত অন্য ক্রু ও যাত্রীদের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন স্মিত।
এই ঘটনার পর থেকেই হামামের পেশাগত অতীত নিয়েও জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, অতীতে ওমান এয়ারে কাজ করার সময় উগ্রপন্থী ওয়েবসাইটে যাওয়া এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের কারণে তাঁকে উড়ান সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কীভাবে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পেলেন এবং তাঁর আগের কর্মজীবনের সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন নিয়োগকর্তাদের জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইজরায়েলি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এই হামলার পেছনে কোনো উগ্রপন্থী বা গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।