‘পা ভাঙেনি, সবটাই ধাপ্পাবাজি!’ ২০২১-এর নন্দীগ্রাম কাণ্ড নিয়ে বাঙুরের রিপোর্ট ফাঁস করে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ভোট প্রচারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম শোরগোল শুরু হলো। এতদিন পরে সেই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে তিনি দাবি করেছেন, সেদিনের সেই ঘটনায় মমতার পা ভাঙেনি। শুধু তাই নয়, এই ‘মিথ্যা প্রচার’ ও ‘ধাপ্পাবাজি’-র বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং নতুন করে তদন্তের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
কী দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী?
গতকালই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পা ভাঙার নামে পুরোপুরি ভুয়ো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার করা হয়েছিল। এরপর আজ নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
শুভেন্দুর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ রেডিও ডায়াগনোসিস’-এর ১১ মার্চ, ২০২১ তারিখের রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে ফ্র্যাকচার বা হাড়ে ডিসলোকেশন হওয়ার কোনও প্রমাণই মেলেনি।
সিআইডি তদন্ত ও নতুন আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
নবান্নের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী গোটা নন্দীগ্রামকে অপমান করে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর পা নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রিপোর্টের তথ্য সম্পূর্ণ আলাদা কথা বলছে।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনা ইতিমধ্যে সিআইডি তদন্তের আওতায় রয়েছে। বর্তমান নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই মিথ্যা প্রচার ও জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের সেই হাই-ভোল্টেজ ইস্যুকে সামনে রেখে শুভেন্দুর এই কড়া বার্তা যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।