মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও ৩০০ জীবন বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার! মোদীর প্রশংসায় ভাসছে দেশ

ইসরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’য়ের একটি বিমানকে এক ভয়ানক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলে তাঁর অসীম সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে ক্যাপ্টেন স্মিত জানান, বিমানের ভেতরের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার সময় তিনি আঘাত পেলেও চুপ করে বসে থাকেননি, কারণ তিনি যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। মোদি তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে জানান যে দেশবাসী তাঁর জন্য প্রার্থনা করছে এবং তাঁর প্রজ্ঞা বহু প্রাণ বাঁচিয়েছে।
স্মিত মাচ্ছারের এই সাহসিকতা প্রায় ৪০ বছর আগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়েছে। ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মুম্বই থেকে নিউইয়র্কগামী প্যান অ্যামের একটি বিমান করাচি বিমানবন্দরে দাঁড়ানো অবস্থায় চার সশস্ত্র ছিনতাইকারী হাইজ্যাক করেছিল। সেই বিমানটিতে ৩৬০ জন যাত্রী ও ১৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তৎকালীন সিনিয়র ফ্লাইট পার্সার ভারতের সাহসী কন্যা নীরজা ভানোত জীবনের পরোয়া না করে ককপিটের পাইলটদের সতর্ক করেছিলেন, যার ফলে পাইলট ও ক্রুরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার ওই ভয়াবহ জিম্মি সংকটের সময় যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন নীরজা। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিমানের জরুরি দরজা খুলে বহু যাত্রীকে বের করে দিলেও, তিন শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ছিনতাইকারীর গুলিতে নির্মমভাবে শহিদ হন তিনি। তাঁর এই বীরত্বের জন্য ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘অশোক চক্র’ সম্মান প্রদান করে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত মাচ্ছার যেভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহযাত্রীদের রক্ষা করেছেন, তা সেই পুরোনো ইতিহাসকেই যেন পুনরায় মনে করিয়ে দিল। সংকটময় মুহূর্তে ভারতীয় বিমানকর্মীদের এই আত্মত্যাগ, কর্তব্যপরায়ণতা এবং সাহসিকতা বরাবরই গোটা পৃথিবীকে স্তব্ধ ও মুগ্ধ করেছে।