চেনাব সেতুতে ঐতিহাসিক গতিবেগ! ১০০ কিমি বেগে ছুটে নতুন রেকর্ড গড়ল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস

ভারতীয় রেলের মুকুটে যুক্ত হল আরও এক নতুন ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক মাইলফলক। বিশ্বের সর্বোচ্চ চেনাব রেল সেতু এবং ভারতের প্রথম কেবল-স্টেড অঞ্জি সেতুর বুক চিরে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে সফলভাবে ছুটল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। কাটরা-বানিহাল রুটে ট্রেনের এই গতি বৃদ্ধিকে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন বলে উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের একগুচ্ছ রোমাঞ্চকর ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তিনি দেশবাসীকে এই সাফল্যের কথা জানিয়েছেন।
এতদিন শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা থেকে বানিহাল সেকশনে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ছিল ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে সেই গতি বাড়িয়ে এক লাফে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা করা হয়েছে। গতকালই এই বর্ধিত গতির সফল পরীক্ষা ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ২৬৪০১/২৬৪০৪) এই দুর্দান্ত গতিতে চেনাব সেতু ও অঞ্জি সেতু সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে এক নতুন ও অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছে। শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা থেকে বানিহাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই ১১১ কিলোমিটার দীর্ঘ অত্যন্ত দুর্গম সেকশনে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রিয় ইউএসবিআরএল (USBRL) প্রকল্পে ট্রেন চলাচল ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি মসৃণ ও দ্রুততর হবে বলে মনে করছেন রেল বিশেষজ্ঞরা।
রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই গতি বৃদ্ধির ফলে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা এবং বানিহালের মধ্যকার দীর্ঘ যাত্রার সময় অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে এই পাহাড়ি অঞ্চলের যাত্রীরা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক রেল পরিষেবা উপভোগ করতে চলেছেন। উল্লেখ্য, অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং কাটরা-বানিহাল সেকশনটি পীর পঞ্জাল এবং নিম্ন হিমালয় পর্বতমালার একেবারে দুর্গম ও বন্ধুর ভূপ্রকৃতির মধ্য দিয়ে প্রসারিত। এই চরম প্রতিকূল পথের মধ্যে রয়েছে সুগভীর উপত্যকা, খাড়া পাহাড়ের ঢাল এবং খরস্রোতা নদ-নদী।
রেল আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সুকঠিন ও জটিল রেলপথ নির্মাণ করার জন্য দীর্ঘ টানেল বা সুড়ঙ্গ, সুউচ্চ সেতু এবং একাধিক অত্যাধুনিক রেল অবকাঠামোসহ অত্যন্ত উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলের ব্যাপক ব্যবহার করতে হয়েছে। প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতীয় রেলের এই অভাবনীয় প্রযুক্তিগত সাফল্য আগামী দিনে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।