কর্মরত বাবাদের জন্য বিরাট সুখবর! মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি এবার মিলবে পিতৃত্বকালীন ছুটিও

কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতা এবং বাবা-মায়ের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং শ্রম মন্ত্রকের কাছে একটি সুদূরপ্রসারী সুপারিশপত্র পেশ করেছে কমিশন। যেখানে মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পুরুষদের জন্যও বাধ্যতামূলক ও সবেতন পিতৃত্বকালীন ছুটি (Paternity Leave) চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

কমিশনের নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর বাবা-মা উভয়েই যেন সমানভাবে শিশুর পাশে থাকতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে বর্তমান ৭৩০ দিনের শিশু-যত্ন ছুটি (Child Care Leave বা CCL) উভয়ের মধ্যে সমানভাবে—অর্থাৎ প্রত্যেকে ৩৬৫ দিন করে—ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই অফিসে কর্মরত দম্পতির জন্য একটি যৌথ বা কমন পুল (Common Pool) ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, শূন্য থেকে দুই বছর বয়সি শিশুদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরিচর্যাকারীর ক্ষেত্রে ৬০:৪০ অনুপাতে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মডেল প্রস্তাব করেছে কমিশন।

বেসরকারি ক্ষেত্রে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’ এবং সর্বজনীন ক্রেস (Creche) পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ৫ লক্ষ শিশু-যত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, অসংগঠিত ক্ষেত্র, গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্যও মাতৃত্বকালীন সুরক্ষার পরিধি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, কারণ বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী কর্মী কার্যকর সুরক্ষার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা’-কে আরও শক্তিশালী করা এবং দত্তক গ্রহণকারী ও ‘কমিশনিং’ মায়েদের ছুটির মেয়াদ ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও এই সুপারিশপত্রে রাখা হয়েছে।