বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস! দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন ১৭ বছরের কুমকুম

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতের ১৭ বছর বয়সী প্রতিভাবান তিরন্দাজ কুমকুম মোহোদ। মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ আর্চারি ইভেন্টের ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তিশালী প্রতিযোগী ওহ ইয়েজিনকে পরাস্ত করে দেশের জন্য সোনার পদক ছিনিয়ে নিলেন তিনি। ফাইনাল ম্যাচটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত শুটআউটে গড়ায়, যেখানে কুমকুম ৬-৫ সেট স্কোরে জয়লাভ করেন। পাঁচটি সেট শেষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের স্কোর ছিল যথাক্রমে ২৭-২৯, ২৯-২৯, ৩০-২৯, ২৭-২৮ এবং ৩০-২৮। এরপর চরম উত্তেজনাকর শুটআউটে কুমকুম ১০-৮ পয়েন্ট ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
শনিবার এই ঐতিহাসিক জয়ের সুবাদে কুমকুম ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করলেন। এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পাশাপাশি তিনি সরাসরি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে নিজের স্থান পাকা করে ফেলেছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়েজিনও অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, এবারের এশিয়ান গেমস অভিযানে কুমকুম মোট তিনটি পদক নিজের ঝুলিতে ভরেছেন—ব্যক্তিগত রিকার্ভে সোনা ছাড়াও মহিলাদের দলগত ইভেন্টে সোনা এবং দলগত মিক্সড ইভেন্টে রূপো জিতেছেন তিনি।
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে ২০১৮ সালে কুমকুমের তিরন্দাজির পথচলা শুরু হয়েছিল। এক আত্মীয়ের উৎসাহে তিনি কোচ প্রফুল্ল ডাঙ্গের রাধে আর্চারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। কোচ তাঁর কাঁধের গঠন, শারীরিক শক্তি ও শেখার প্রবল আগ্রহ দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই মেয়ে একদিন বড় কিছু করবে। এমনকি করোনাকালেও তিনি ছোট পরিসরে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। তাঁর প্রথম ধনুকটি ছিল মাত্র তিন হাজার টাকার একটি কাঠের ধনুক, যা কেনার টাকা তাঁর দিদা দিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণের মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই তিনি সাব-জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জিতে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর পরিবারের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ। তাঁর বাবা অনিল মনোহর মোহোদ অমরাবতীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের জন্য কার্ডবোর্ডের বাক্স তৈরি করেন। সাংহাইতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আর্চারি বিশ্বকাপে তিনি যে সেকেন্ড-হ্যান্ড ধনুকটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি দিয়েই তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর বাবা প্রতিদিন বাইকে করে তাঁকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতেন। পরবর্তী সময়ে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ স্কিমের সুবাদে তাঁর পথচলা কিছুটা সহজ হয়। সাংহাইয়ে আর্চারি ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেজ ২-এ ভারতের মহিলা রিকার্ভ দলের হয়ে সোনা জেতার পর, সোনিপতের ট্রায়ালে সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি এশিয়ান গেমসের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাকা করেন এবং আজ দেশের মুকুটে নতুন মণি যুক্ত করলেন।