ভারতের নাগরিকত্ব ছাড়লেও নিলেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা! মাদ্রাসার বরখাস্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ ইডির

উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগর জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পরেও দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় কোষাগার থেকে বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অবৈধভাবে তোলার অভিযোগে ওই শিক্ষকের ৫৩ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার একটি বাস্তু জমি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার লখনউ জোনাল অফিস প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) আইনের অধীনে এই নির্দেশিকা জারি করেছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মৌলানা শামসুল হুদা খান ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, যার ফলে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে তিনি আজমগড়ের মুবারকপুরের একটি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিজের চাকরি বহাল রাখেন। সংখ্যালঘু কল্যাণ ও ওয়াকফ বিভাগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে প্রকাশ পায় যে, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাঁর চাকরির নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ২০১৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসরের অনুমতি নেন এবং নিয়মিত পেনশনের সুবিধাসহ লক্ষাধিক টাকা সরকারি তহবিল থেকে আত্মসাৎ করেন।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও অভিযুক্ত শিক্ষক সন্ত কবীর নগরে স্থাবর সম্পত্তি কেনার সময় নিজের প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং তাঁর পূর্বের সমর্পণ করা ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন। খলিলাবাদে ১৮৯.৭৫ বর্গমিটারের ওই জমিটি তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পরেই ক্রয় করেছিলেন। যেহেতু অপরাধলব্ধ সেই অর্থ ইতিমধ্যেই খরচ হয়ে গিয়েছিল, তাই ইডি সমমূল্যের তাঁর একটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এও অভিযোগ উঠেছে যে, ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার সুবাদে ওই শিক্ষক পাকিস্তানের একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন এবং তাদের গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই মামলায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ত কবীর নগরে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করে ইডি, যার ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।