ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা গিয়েছিল মমতার অ্যাকাউন্টে! বিস্ফোরক দাবি ED-র,

দুর্গাপুজোর কার্নিভাল ও ইউনেস্কো স্বীকৃতি ঘিরে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ‘ম্যাসআর্ট’ (MassArt)-এর আর্থিক লেনদেনের তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলায় টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা ইন্দ্রনীল সেনকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। যদিও ইন্দ্রনীলবাবুর দাবি, ওই টাকা রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল।

ইডির স্ক্যানারে অক্টেভ রেকর্ডস ও ম্যাসআর্ট

বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর (FIR)-এর ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করে ইডি। মামলায় ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও ম্যাসআর্টের সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী পদে থাকার সময় তাঁর মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ এবং তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা পড়েছিল। শুধু তাই নয়, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যাসআর্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম, পরিচিতি ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে এবং ম্যাসআর্টকে ইউনেস্কোর অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে জাহির করে এই তহবিল গড়া হয়েছিল।

২৪টি পুজোর প্রিভিউ শো ও কোটি টাকার টিকিট বিক্রি

ইডি সূত্রে জানা গেছে, ম্যাসআর্টের পক্ষ থেকে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলকে কেন্দ্র করে প্রিভিউ শো আয়োজন করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জন্য সেই সমস্ত শোয়ের টিকিট ১,৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয়। শুধুমাত্র ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই এক লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এই টিকিট বিক্রির লভ্যাংশের একটি বড় অংশ ব্যাঙ্ক থেকে নগদে তুলে নেওয়া হয় অথবা ভুয়ো খরচ দেখিয়ে হিসেব থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

টেন্ডার দুর্নীতি ও কোটি টাকার লেনদেন

তদন্তে নেমে পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক টেন্ডারের ক্ষেত্রেও বেনিয়মের সন্ধান পেয়েছে ইডি। অভিযোগ, সেই সময় ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের সংস্থাকে। পরবর্তীতে সেই সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সংস্থায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। এই বিশাল পরিমাণ অর্থের আসল উৎস এবং তার ব্যবহার খতিয়ে দেখতে বর্তমানে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।