শতবর্ষে ঐতিহাসিক বদল: ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হু হু করে বাড়ছে নারী শক্তির জয়জয়কার!

ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) প্রতিষ্ঠার গৌরবময় ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর নয়াদিল্লির সুসজ্জিত ভারত মণ্ডপমে কমিশনের শতবর্ষ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। গত এক শতাব্দীতে দেশের নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় ইউপিএসসির ভূমিকা যেমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই এই দীর্ঘ যাত্রায় সিভিল সার্ভিসে নারীদের অংশগ্রহণ এক অভাবনীয় এবং অনুপ্রেরণামূলক রূপ নিয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৫২ সালে যেখানে মোট ৮৩ জন সফল প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন মহিলা (মাত্র ৩.৬ শতাংশ) সিভিল সার্ভিসে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন, সেখানে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সিএসই-এর ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, মোট ৯৫৮ জন সফল প্রার্থীর মধ্যে ২৯৯ জনই ছিলেন নারী, যা মোট সফল প্রার্থীর প্রায় ৩১.২ শতাংশ। অর্থাৎ, বিগত এক দশকে যেখানে সিভিল সার্ভিসে সফল নারীদের হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, তা এখন এক লাফে ৩০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক অতীতে চূড়ান্ত মেধার তালিকায় প্রথম পাঁচজনের মধ্যেও নারী প্রার্থীর সফল উপস্থিতি গোটা দেশের কাছে এক বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতে প্রথম পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠিত হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে বর্তমানের রূপ নেয়। গত ১০০ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক বিকাশ এবং শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ইউপিএসসি বরাবরই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই শতবর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান প্রমাণ করে দিল যে, কঠোর মেধা ও অদম্য জেদের জোরে আজ ভারতের মেয়েরাই দেশের প্রশাসনিক ক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠছেন।