১০ কোটিতে পৌঁছল উজ্জ্বলা যোজনা! বিনা আমানতে এলপিজি গ্যাস সংযোগ পেয়ে স্বস্তিতে দেশের কোটি কোটি নারী

মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং রান্নাঘরে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে চালু হয়েছিল ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ (PMUY)। কম আয়ের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের কাঠ, কয়লা বা গোবরের মতো ক্ষতিকর জ্বালানির ধোঁয়া থেকে মুক্তি দিতে বিনা আমানতে এলপিজি (LPG) সংযোগ দেওয়ার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ আজ এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছে।
৯ বছরে ১০ কোটিরও বেশি সংযোগ:
২০২৫ সালের ১ মে এই প্রকল্পের সফল ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে দেশে মোট ৩২ কোটি ৯৪ লক্ষ সক্রিয় গারহস্থ্য এলপিজি গ্রাহকের মধ্যে ১০ কোটি ৩৩ লক্ষ মানুষই ছিলেন এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী। ২০২১ সালের আগস্টে শুরু হওয়া ‘উজ্জ্বলা ২.০’ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিযায়ী পরিবারগুলির জন্য বড় স্বস্তি আনা হয়েছে। এখন থেকে রেশন কার্ড বা কঠিন ঠিকানার প্রমাণ ছাড়াই কেবল স্বঘোষণার ভিত্তিতে (Self Declaration) নতুন এলপিজি সংযোগ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
গ্রামীণ পরিকাঠামো ও ব্যবহার বৃদ্ধি:
এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রায় আট হাজার নতুন এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে, যার প্রায় ৯৩ শতাংশই রয়েছে গ্রামে। শুধু সংযোগ দেওয়াই নয়, সুবিধাভোগীদের নিয়মিত সিলিন্ডার রিফিল ব্যবহারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালের বার্ষিক মাথাপিছু ৩.০১ সিলিন্ডার ব্যবহার বেড়ে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৪.৪৩-এ পৌঁছেছে।
কী কী আর্থিক সুবিধা এবং কারা আবেদন করতে পারবেন:
প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারকে সিলিন্ডারের জামানত, প্রেশার রেগুলেটর, পাইপ এবং সংযোগ স্থাপনের খরচ বাবদ ১,৬০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথম রিফিল ও রান্নার ওভেনও বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যে সমস্ত নিম্ন-আয়ের মহিলাদের নামে আগে থেকে কোনো এলপিজি সংযোগ নেই, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তফসিলি জাতি-উপজাতি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার উপভোক্তারাও এই সুবিধার আওতায় আসেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন রান্নার ধোঁয়া জনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে, তেমনই মহিলাদের মূল্যবান সময় ও শ্রম বেঁচেছে যা তাঁরা অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যবহার করতে পারছেন।