‘কংগ্রেসই নেতৃত্ব দিক, আমার কোনো ইগো নেই!’ রাহুল গান্ধী নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জাতীয় রাজনীতিতে ফের এক চাঞ্চল্যকর মোড়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদপ্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে যে তাঁর আর বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই, INDIA জোটের বৈঠকে সেই অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন ধরে বিরোধী জোটের অন্দরে নেতৃত্বের মুখ কে হবেন তা নিয়ে নানা জল্পনা ও টানাপড়েন চললেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমোর এই মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত হওয়া INDIA জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আগামী দিনের নেতৃত্ব। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কংগ্রেসই দেশের প্রধানমন্ত্রী পদ পেতে পারে এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত অহংকার বা ইগো নেই। তবে তাঁর সাফ শর্ত, সমস্ত শরিক দলের পারস্পরিক সহমত ও ঐক্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মমতার এই বার্তার পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও দলের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে, ক্ষমতার লোভ বা পদের লড়াই তাঁদের লক্ষ্য নয়, তাঁদের মূল লড়াইটা হল দেশের গণতন্ত্র বাঁচানো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় যখন বিরোধী জোট গঠিত হয়েছিল, তখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার নিরিখে মমতা রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে এবং তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা উচিত। পাশাপাশি, রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব এবং আসনরফা নিয়ে টানাপড়েনের জেরে বিরোধী জোটের অন্দরেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মমতার এই নমনীয় মনোভাব এবং রাহুলের নেতৃত্বকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত বিরোধী শিবিরের কৌশল বদলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বামেদের সঙ্গে যোগাযোগের গুঞ্জনের মাঝেই মমতার এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।