ছুরি নিয়ে সহ-পাইলটের হামলা, ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে সকলের মন জয় করলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত!

মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ১৭১ জনেরও বেশি যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় এখন গোটা বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এক ভারতীয় পাইলট। দুবাই থেকে ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা ককপিটের সেই ভয়ঙ্কর রোমহর্ষক কাণ্ডে বর্তমানে খবরের শিরোনামে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু থেকে শুরু করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—সকলেই তাঁর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আর এই ঘটনার পরেই সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, কে এই স্মিত মচ্ছর?

পেশাগত জীবন ও অভিজ্ঞতা

স্মিত মচ্ছরের লিঙ্কডইন প্রোফাইল সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রোফাইলে ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ ও ৯ বিমানে মোট ৯,৭৫০ ঘণ্টার বিশাল উড়ানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ ১১ বছর মুম্বইয়ে স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি প্রথমে সিনিয়র কমান্ডার এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব সামলান। এই পদে থেকে তিনি অন্য পাইলটদের ট্রেনিং দেওয়া এবং তাঁদের দক্ষতা যাচাইয়ের কাজ করতেন। ফ্লাইদুবাইয়ে তিনি ‘ডাইরেক্ট-এন্ট্রি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে যোগ দেন, যার অর্থ অন্য বিমান সংস্থায় ইতিমধ্যেই ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করা অভিজ্ঞ পাইলটকে সরাসরি ওই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। স্পাইসজেটেই তাঁর পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে ৬,৪০০ ঘণ্টারও বেশি ওড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছিল।

শিক্ষাগত পটভূমি

পাইলট হিসেবে আকাশ জয় করার আগে স্মিত মচ্ছর ২০০৮ সালে ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরই তিনি বিমান চালানোর পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ফ্লাইদুবাই বিমানে আসলে কী ঘটেছিল?

বুধবার সকালে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (ডিএক্সবি) থেকে ইজরায়েলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি। মাঝ আকাশে থাকাকালীন হঠাৎই বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে চরম সংঘর্ষ শুরু হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বিবৃতিতে জানান, মাঝ আকাশে এক পাইলট বিমানের সিস্টেমে নাশকতা চালিয়ে বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করেছিলেন। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর তাঁকে বাধা দিতে গেলে তাঁর ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালানো হয়।

ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত পিছু হটেনি। তিনি প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ওই সময় বিমানে থাকা এক ক্রু সদস্য এবং এক যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করে ফেলেন। ধস্তাধস্তির সেই মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি অনেকটা নীচে নেমে গিয়েছিল। তবে ক্রু সদস্যের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

জানা গিয়েছে, সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর স্মিত মচ্ছরের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, ওই অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে, তবে তাঁর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।