‘পয়সা দিলেই ভিআইপি হওয়া যায় না!’ পুজো কমিটিগুলোর নয়া যৌথ মঞ্চ গড়েই বড় হুঙ্কার রুদ্রনীলের

রাজ্যের দুর্গাপুজোর আবহকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং পুজোকে ঘিরে চলা নানা অনিয়ম রুখতে রাজ্যে আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন যৌথ মঞ্চ—‘পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’। বুধবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন সংগঠনের শুভ সূচনা হয়। সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানেই উদ্যোক্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ বছর দুর্গাপুজোয় আমূল বদলাতে চলেছে রাজ্যের চিরাচরিত ভিআইপি কালচার। বিশেষ করে ভিআইপি পাস বা টিকিট দেওয়ার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতি ব্রেদাস্ত করা হবে না। এই গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আগামী দু-একদিনের মধ্যে রাজ্যের ডিজিপি (DGP) এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারের (CP) কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করবেন সংগঠনের কর্তারা।

নবগঠিত এই দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্তিক মহারাজ। পাশাপাশি সংগঠনের সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রুদ্রনীল ঘোষ এবং অন্যতম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রীতম সরকার। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধায়ক মানব গুহ, বিশিষ্ট নেত্রী কেয়া ঘোষ সহ বিভিন্ন প্রখ্যাত পুজো কমিটির বহু কর্ণধার ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সংগঠনের নিজস্ব লোগো এবং একটি আধুনিক ওয়েবসাইটেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ দর্শকরা এক ক্লিকেই কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের এই মঞ্চের আওতাধীন সমস্ত পুজো কমিটি এবং তাদের মণ্ডপের সঠিক লোকেশন জানতে পারবেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সংগঠনের উদ্বোধনী দিনে দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সভাপতি রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মায়ের পুজোয় টাকার বিনিময়ে ভিআইপি টিকিট বিক্রি করে অর্থালাপ আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না। আমরা চাই না ভিআইপি টিকিটের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি অনৈতিকভাবে টাকা তুলুক। এই সমিতির তরফে আমরা এক টাকাও নেব না। আমরা মনে করি পয়সা দিলেই ভিআইপি হওয়া যায় না। বরং বয়স্ক, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ছাড়াও নার্স, চিকিৎসক, পুলিশকর্মী ও দমকলকর্মীরাই সমাজের আসল ভিআইপি।”

অন্যদিকে, সংগঠনের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রীতম সরকার পূর্বের পুজো ফোরামের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা অতীতে দেখেছি আগের ফোরামের কর্তারা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর মানতে পারছে না। তাই এই নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্ম। যাঁরা অতীতে ভিআইপি টিকিট বিক্রি করে ব্যবসা করেছেন, তাঁরা নিজ দায়িত্বে করেছেন। আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে কাউকেই আর টিকিট বিক্রি করতে দেব না।” এদিনের অনুষ্ঠানে বালিগঞ্জ ক্যালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক সপ্তর্ষি বসুও উপস্থিত ছিলেন। তিনি নতুন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “ভিআইপি সংস্কৃতিতে আমরা বহু দিন ধরেই বিশ্বাস করি না। আমরা শুধুমাত্র বিশেষ আমন্ত্রণপত্র দিয়ে থাকি। আজকের এই নতুন মঞ্চকে স্বাগত জানাই।”