মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারি দাবি! তৃণমূলের হুঙ্কার শুনে বিজেপি যা বলল, জানলে চমকে যাবেন

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেফতারির দাবিতে এবার জোরালো আন্দোলন শুরু করল শাসক শিবির। একদিকে যখন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই কলকাতার রাজপথ থেকে শুরু করে রাজ্য বিধানসভায় জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানাল মমতা শিবির। যদিও বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে একে তাদের চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা বলেই কটাক্ষ করেছে বঙ্গ বিজেপি।
তৃণমূলের বিস্ফোরক অভিযোগ ও ক্ষোভ রাজ্য বিধানসভায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার করেছেন। এসআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি গণনা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ফলাফল ঘুরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন তাঁরা। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা ভোটের পুরনো প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন, সেদিন নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলীয় এজেন্টদের পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় অবিলম্বে নতুন ভোটার তালিকা বাতিল করে পুরনো তালিকা অনুযায়ী ফের ভোটগ্রহণের দাবি জানান তাঁরা। সেই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও গ্রেফতারির দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে।
বিজেপির পালটা জবাব ও সাফাই তৃণমূলের এই আক্রমণকে পাত্তা দিতে নারাজ রাজ্য সরকারের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এসআইআর নিয়ে বিরোধী দলগুলি পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর মতে, কেরল বা তামিলনাড়ুতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকলেও শুধু পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারকে নিয়ে জলঘোলা করার অর্থই হলো বিরোধীদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, কিন্তু কমিশনের কড়া নজরদারির ফলেই রাজ্যে আজ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরেছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন পারদ চড়েছে তুঙ্গে।