ক্যান থেকে নাম সরানোর নির্দেশ! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সোজা আদালতে গেল বিশ্বখ্যাত সংস্থা রেড বুল

বোটল বা ক্যানের গায়ে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ লেখা থাকলেই কি ক্রেতারা ভুল ধারণা পেতে পারেন? এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এবার শুরু হয়েছে তীব্র আইনি টানাপড়েন। পানীয়ের ক্যান বা লেবেল থেকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ শব্দবন্ধ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা রেড বুল (Red Bull sues FSSAI)। অস্ট্রিয়ার এই বহুজাতিক সংস্থার মূল অভিযোগ, কোনো ধরনের আগাম নোটিস না দিয়েই ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ামক সংস্থা FSSAI তাদের পণ্যে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে FSSAI দেশের বেশ কয়েকটি বড় পানীয় সংস্থাকে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে উচ্চ-ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের লেবেল থেকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বা সমার্থক শব্দ সরিয়ে ফেলার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল। রেড বুলের পাশাপাশি এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল পেপসিকো, মনস্টার, রিলায়েন্স এবং হেল এনার্জির মতো প্রভাবশালী সংস্থোগুলিও।
কেন এই নাম ব্যবহারে আপত্তি জানাচ্ছে FSSAI? খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থার যুক্তি হলো, ভারতে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নামে বাজারজাত করা পানীয়গুলির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আলাদা মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড নেই। এই ক্যাটাগরির পণ্যগুলি মূলত ‘ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়’ হিসেবেই নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই পণ্যের গায়ে সরাসরি ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ কথাটি ব্যবহার করা প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
FSSAI-এর আরও বক্তব্য, এই জাতীয় পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন থাকে, যা সাময়িকভাবে শক্তি জোগালেও এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য প্রভাব রয়েছে। ফলে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নাম দেখে সাধারণ ক্রেতাদের মনে পানীয়টির বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগুণ বা অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ রয়েছে বলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। শুধু পণ্যের লেবেলই নয়, বিজ্ঞাপনের ভাষা নিয়েও আপত্তি তুলেছে সংস্থাটি। বিজ্ঞাপনে ‘শরীর ও মনকে সতেজ করে’ কিংবা ‘ক্লান্তি দূর করে’-র মতো দাবি ক্রেতাদের ভুল পথে চালিত করতে পারে বলেই মনে করছে তারা।
রেড বুলের আসল অভিযোগ কী? দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় রেড বুল সাফ জানিয়েছে, নিয়ামক সংস্থা তাদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিস না দিয়েই একতরফাভাবে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এর ফলে ভারতে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা এবং কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শিল্পমহল সূত্রে খবর, এই নির্দেশের পর নতুন পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হলেও পুরনো স্টক বাজারে বিক্রি করা নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছে সংস্থাগুলি। ছোট ডিস্ট্রিবিউটররা ঝুঁকি নিলেও বড় সুপারমার্কেট ও রিটেল চেনগুলি লেবেল পরিবর্তনের আশঙ্কায় নতুন করে কোনো স্টক নিতে চাইছে না। ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলায় FSSAI-এর কাছে জানতে চেয়েছে যে, রেড বুলকে এই নির্দেশ দেওয়ার আগে কোনো আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না। আগামী দিনে এই আইনি লড়াইতে জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে বাণিজ্য মহলের।