কচু খেলেই গলা ধরে? লেবু বা তেঁতুল নয়, রান্নাঘরের এই সাদা জিনিসেই মিলবে ম্যাজিকের মতো আরাম!

কচু দেখলেই জিভে জল আসে অনেকেরই, কিন্তু নাম শুনলেই ভয়ে পিছিয়ে যান অনেকে। কারণ একটাই—কচু খেলে গলা চুলকানোর বিড়ম্বনা। বিজ্ঞানীদের মতে, কচু জাতীয় শাক-সবজিতে প্রাকৃতিকভাবেই ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ বা র্যাফাইড থাকে। এটি মুখে বা গলায় প্রবেশ করলে সূচের মতো বিঁধে যায়, যা থেকে তীব্র অস্বস্তি ও খসখসে ভাব তৈরি হয়। কচু খেয়ে গলা চুলকালে কীভাবে মুক্তি পাবেন, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা বড়ঞা ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌমিক দাস।
চিকিৎসকের মতে, কচুর মূলে, কাণ্ড এবং পাতায় গাছের রেচন পদার্থ হিসেবে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ বা র্যাফাইড থাকে, যার গড়ন অনেকটা সূচের মতো। রান্নার সময় অতিরিক্ত উত্তাপে এর বেশির ভাগ গলে গেলেও, কিছু অংশ অক্ষত থেকে গেলে গলায় প্রদাহ তৈরি করে। শুধু তাই নয়, এই র্যাফাইড রক্তে মিশে কিডনিতে পৌঁছে পাথর জমার কারণও হতে পারে।
সাধারণত গলা চুলকালে লেবু বা তেঁতুলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সবসময় হাতের কাছে তা না পাওয়া গেলে কিংবা গ্যাসের সমস্যা থাকলে বিকল্প উপায় কী? ডাঃ সৌমিক দাসের মতে, কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।
১. নুন-জল কুলকুচি: গলা চুলকানি শুরু হলেই এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ গরম জলে আধ চামচ নুন মিশিয়ে ভালো করে কুলকুচি করুন। এটি গলার প্রদাহ কমায় এবং অক্সালেটের প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে।
২. খাঁটি মধু: এক চামচ খাঁটি মধু আস্তে আস্তে গিলে খান। মধুর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান গলার ভিতরের আস্তরণে প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ তৈরি করে দ্রুত আরাম দেয়।
৩. দুধ বা দই: দুধ বা দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম গলার ভিতর আটকে থাকা অক্সালেট ক্রিস্টালের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তার ধার কমিয়ে দেয়। তাই কচু খেয়ে গলা ধরলে এক ঢোক ঠান্ডা দুধ বা সামান্য দই খেয়ে নিন।