৭৪ কেজি পচা খাবার ধ্বংস, ছাদ চুইয়ে জল! FSSAI-এর ঝটিকা অভিযানে লাইসেন্স বাতিল এই বিলাসবহুল সংস্থার!

আতিথেয়তা সংস্থাগুলির বড় বড় বিজ্ঞাপনী দাবি ও বাস্তব চিত্র যে কতটা ফারাক হতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক এক অভিযানে। খাদ্য সুরক্ষার মানদণ্ড যাচাই করতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-র একটি দল মেসার্স সেভেন সিজ হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রাঙ্গণে হঠাৎ পরিদর্শনে যায়। আর সেখানে প্রবেশ করতেই আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠে। রান্নাঘরের ভয়াবহ স্বাস্থ্যহীন ও নোংরা পরিবেশ দেখে তারা রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। কর্তৃপক্ষের নজিরবিহীন অবহেলার জেরে অবিলম্বে ওই সংস্থার ফুড লাইসেন্স স্থগিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকারী দল রান্নাঘরে ঢুকে দেখতে পায় পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে উপচে পড়া ময়লা-আবর্জনা ও জল জমে থাকার দৃশ্য। রান্নার জন্য রাখা টমেটো, পেঁপে, কাজু এবং গুড়—সবকিছুতেই ছত্রাক ধরেছিল। এমনকি সবজির জন্য মজুত ক্যাপসিকামটি পুরোপুরি পচে গলে গিয়েছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কড়াইয়ে ব্যবহারের জন্য রাখা রান্নার তেল অতিরিক্ত পুড়ে কুচকুচে কালো হয়ে গিয়েছিল। এই নক্কারজনক পরিস্থিতি দেখে এফএসএসএআই দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই প্রায় ৭৪ কিলোগ্রাম পচা ও ক্ষতিকর খাবার ধ্বংস করে দেয়।
সংরক্ষণের নিয়মকানুনকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিরামিষ ও আমিষ খাবার একসঙ্গে রাখা হয়েছিল। কোল্ড স্টোরেজের অবস্থাও ছিল শোচনীয়। ছাদ থেকে সরাসরি খাদ্যদ্রব্যের উপর জল পড়ছিল এবং রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিকল হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত বরফ ও জলের কারণে পুরো এলাকায় তেলাপোকা ও মাছির উপদ্রব শুরু হয়েছিল, যা গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
তদন্ত শেষে FSSAI রিপোর্টে প্রকাশ পায় যে, সেভেন সিজ হসপিটালিটির কমপ্লায়েন্স স্কোর ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ বা জল পরীক্ষার কোনো বৈধ রেকর্ডও দেখাতে পারেনি সংস্থাটি। এর পরেই খাদ্য কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে লাইসেন্স স্থগিত করে এবং সাফ জানিয়ে দেয় যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সংস্থাকে সমস্ত ধরনের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।