এআই-এর গতি কমাবে না আমেরিকা! ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে কী চুক্তি করল ওপেনএআই-গুগল?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উন্নয়নে নতুন মোড় এসেছে। দেশটির প্রধান এআই কোম্পানিগুলো নিজেরাই এই প্রযুক্তির বিকাশ ও নিরাপত্তা তদারকি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থার নির্বাহীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা এআই-এর অপ্রতিরোধ্য গতি কোনোভাবেই থামাতে চায় না। বরং এই প্রযুক্তির ওপর নতুন কোনো কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ আরোপের পরিবর্তে কোম্পানিগুলোকেই তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন যে এআই-এর অগ্রগতি শিল্প বিপ্লবের চেয়েও সুদূরপ্রসারী হতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব বজায় রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, এআই শব্দটির পরিবর্তে একে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতি-মেধা হিসেবে নামকরণের পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের টেক জগতের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। হাউস স্পিকার মাইক জনসন ছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোডি, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলা ও এক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা।
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির স্ব-নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি কোম্পানি নিরাপদ উপায়ে তাদের এআই প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনা করতে দায়বদ্ধ থাকবে। জনসাধারণ এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে কোম্পানিগুলোকে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য বিশেষ দল গঠন করা হবে যা যেকোনো ত্রুটি বা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে তার সমাধান করবে। এছাড়াও একটি স্বাধীন বোর্ড কমিটি গঠন করা হবে, যারা এই নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিটিকে একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ সমঝোতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর অর্থ হলো, কোম্পানিগুলো নিজ দায়িত্বে এই নিরাপত্তা বিধানগুলো মেনে চলতে সম্মত হলেও এটি সরাসরি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন সরকারি আইন বা প্রবিধান নয়। ট্রাম্প, অ্যানথ্রোপিক, গুগল, মেটা, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও এক্সএআই-এর শীর্ষ নির্বাহীদের যৌথ স্বাক্ষরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে এআই এজেন্টদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ নিয়ে জনমনে যখন নানা উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই স্ব-নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তি প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।