রাহুল গান্ধীকে সোজা কাসাবের সঙ্গে তুলনা! প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা কংগ্রেসের

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম দোষী সাব্যস্ত জঙ্গি আজমল কাসাবের তুলনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অনুপ বর্মার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর ও আইনি অভিযোগ দায়ের করল কংগ্রেস সেবা দল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ফের নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ‘এক্স’ (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিতর্কিত কোলাজ পোস্ট শেয়ার করেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিক অনুপ বর্মা। ওই ছবিতে পাশাপাশি দেখা যায় কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং পাকিস্তানের হয়ে মুম্বই হামলায় অংশ নেওয়া কুখ্যাত জঙ্গি আজমল কাসাবকে। দু’জনেরই হাতে ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। ছবির বাঁ দিকে থাকা রাহুল গান্ধীর ছবিটির ঠিক পাশেই বর্মা ক্যাপশনে লেখেন, “নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, বাঁ দিকে থাকা ব্যক্তিই ভারতের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক।”
পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় ওঠে। কংগ্রেস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দেশের সাংবিধানিক পদে আসীন এক শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ২৬/১১-র মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় সাজাপ্রাপ্ত খুনির এই ধরনের তুলনা চরম মানহানিকর এবং কুৎসিত মানসিকতার পরিচায়ক। এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস সেবা দল। সংগঠনের লিগ্যাল সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও তার নির্দিষ্ট আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। দল ও নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের বিদ্বেষমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সাইবার আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিধান অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।
এদিকে, এই ঘটনার সমালোচনায় মুখ খুলেছেন বায়ুসেনার অন্য এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক সার্জেন্ট কর্মবীর সিংহও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাহুল গান্ধীকে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে তুলনা করা রাজনৈতিক শালীনতা এবং সুস্থ মতপার্থক্যের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের মতো এমন কুরুচিকর আচরণ একজন সেনা আধিকারিকের থেকে কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ১৬৬ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ২৩৮ জন। হামলার সঙ্গে যুক্ত ১০ জন সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে একমাত্র আজমল কাসাবকে জীবিত পাকড়াও করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সেই কুখ্যাত জঙ্গির সঙ্গেই দেশের এক বিরোধী নেতার এই তুলনা ঘিরেই এখন সরগরম রাজনৈতিক ময়দান।