হাইকোর্ট থেকে জামিন পেতেই ফের বিপাকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস! প্রচার করতে গিয়ে পুলিশের জালে দুই নেতা?

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুটছে রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচনের ঠিক মুখে নন্দীগ্রামে যা শুরু হয়েছে, তাকে ঘিরে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটের মাত্র ১৮ দিন আগে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার পর এবার প্রচারের দায়িত্বে থাকা দুই কংগ্রেস নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রদেশ কংগ্রেসের তীব্র অভিযোগ, শুধুমাত্র কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে প্রচার করার অপরাধেই সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস ও মানিক ফকির নামের দুই নেতাকে চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে জোর করে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “বাংলায় গণতন্ত্র আজ অত্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। শাসক দলের মদতেই পুলিশ প্রশাসন বিরোধীদের ওপর প্রতিনিয়ত প্রতিহিংসামূলক আচরণ করে চলেছে।” যদিও কী কারণে ওই দুই কংগ্রেস নেতাকে থানায় আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, থানায় নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মানিক ফকিরকে এখনও আটকে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রচারপর্ব চলবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক তিন দিন পর, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালের একটি পুরোনো মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এর ফলে ভোটের ময়দানে বড় ধাক্কা খায় কংগ্রেস। তবে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মিলন প্রধানের জামিনের শুনানি হয়। রাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আদালত আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে শর্ত অনুযায়ী আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে ফের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কংগ্রেস শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

কিন্তু জামিনের সেই স্বস্তি কাটতে না কাটতেই চণ্ডীপুর থেকে দুই কংগ্রেস নেতাকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে প্রার্থী জেল থেকে ফিরলেও তাঁর প্রচারকদের এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ায় গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী ময়দানে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার জন্য প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, উত্তপ্ত নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক রসায়ন উপনির্বাচনের ফলকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।