সহকর্মীদের রক্তে ভিজে গেল ব্যারাক! একে-৪৭ দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪ জনকে খুন করল CISF জওয়ান

জম্মুর কাঠুয়া জেলায় ঘটে গেল এক রক্তহিম করা মর্মান্তিক ঘটনা। নিজের সরকারি একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে সহকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে চারজনকে খুন করার অভিযোগ উঠল এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় এক সহকারী কমান্ড্যান্ট ও এক ইন্সপেক্টরসহ মোট চারজন সিআইএসএফ কর্মী নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল কাঠুয়ার ক্যাম্পে?
বাসোহলির মাশকা এলাকার সেবা পাওয়ার প্রজেক্টে সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সিআইএসএফ ইউনিটের ক্যাম্পেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো একটি বিষয় নিয়ে সিআইএসএফ কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বনিবনা না হওয়ার জেরে এই গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। ২০০৯ ব্যাচের সিআইএসএফ কর্মী অভিদেশ সিং তাঁর কাছে থাকা সরকারি একে-৪৭ রাইফেল ও প্রায় ১৫০ রাউন্ড গুলি নিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন।
এই অতর্কিত হামলায় চারজন জওয়ান গুরুতর জখম হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। নিহত চার জওয়ান হলেন—
কনস্টেবল রফিক আহমেদ
কনস্টেবল সন্দীপ কুমার
সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডে
সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং
পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ও তদন্ত
খবর পাওয়া মাত্রই কাঠুয়া জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত জওয়ান অভিদেশ সিংকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি কোনো বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলা ছিল না, বরং বাহিনীর অভ্যন্তরেই দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই মারাত্মক বচসা শুরু হয়েছিল এবং এর নেপথ্য অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাঠুয়া পুলিশ ও সিআইএসএফ যৌথভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। ক্যাম্প ও তার আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্রম।