বাবা-মা মানেই কি ভগবান? গুরুগ্রামের সিইওর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় ইন্টারনেট!

‘বাবা-মা মানেই ভগবান’—এই প্রচলিত ধারণায় এবার বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিলেন গুরুগ্রামের এক স্টার্টআপ সিইও। সমাজ তথা ভারতীয় প্যারেন্টিং নিয়ে তাঁর এক বেবাক মন্তব্যে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেটিং অ্যাপ ‘নট ডেটিং’ (Knot Dating)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জসবীর সিং সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, মাতা-पिता কোনো দেবতা নন এবং তাঁদের অন্ধের মতো পুজো করা বন্ধ করা উচিত।

জসবীর সিংয়ের মতে, সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো বিরাট লৌকিক কৃতিত্ব কিংবা ঈশ্বরের দেওয়া কোনো বিশেষ গুণ নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র মা-বাবা হয়ে গেলেই কোনো সাধারণ মানুষ রাতারাতি অলৌকিক উপায়ে বুদ্ধিমান বা নিখুঁত হয়ে যায় না। একজন মানুষ জন্মের পর যেমন বা যে মানসিকতার থাকে, সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও তার সেই মৌলিক স্বভাব বা নালায়েকিপনা একই থেকে যায়।

ভারতীয় প্যারেন্টিং বা অভিভাবকত্বের প্রচলিত কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই যে সন্তানদের সবসময় মা-বাবার প্রতিটি কথা বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে চলতে হবে, কেবল এই কারণে যে তাঁরা জন্ম দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, এই পৃথিবীতে আসার জন্য সন্তান নিজে কখনো ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, বরং এই পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে বাবা-মার নিজস্ব ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই মা-বাবা সন্তানদের স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে বড় না করে নিজেদের অবহেলিত বা অপূর্ণ স্বপ্নগুলো তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো আচরণ করেন।

সিইওর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়াটি দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেছে। একপক্ষ জসবীর সিংকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, বাবা-মায়ের নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন বা পছন্দমতো জীবনসঙ্গী সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। নতুন প্রজন্মের নিজস্ব জীবন বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। অন্যদিকে, সমালোচকরা তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলছেন, সন্তান লালন-পালনের জন্য বাবা-মায়েরা যে অমানসিক পরিশ্রম, রাত জাগা ও ত্যাগ স্বীকার করেন, তাকে শুধুমাত্র একটি সাধারণ জৈবিক প্রক্রিয়া বলে তুচ্ছ করা যায় না। এক ইউজার লিখেছেন, মা-বাবাকে ঈশ্বরের আসনে বসানোর ঐতিহ্য কোনো অন্ধবিশ্বাস নয়, বরং তাঁদের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।