“ইডেনে ৩০০০ ঢাকি, ড্রোন প্রদর্শনী”-মোদী-শুভেন্দুর উপস্থিতিতে চোখ ধাঁধানো মহোৎসব

এ বছরের দুর্গাপুজো যে এক্কেবারে অন্যরকম এবং স্মরণীয় হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। তবে মহালয়ার দিনেই খাস কলকাতায় যে এমন এক অভূতপূর্ব ও মেগা আয়োজন হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চর্চা। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মাতৃপক্ষের সূচনা লগ্নেই উমা বরণের আরাধনায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে তিলোত্তমা। আর এই বিশেষ আয়োজনে ইডেন গার্ডেন্সে ঢাকে কাঠি পড়তে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু তথা হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে।

মহালয়ার দিন সকাল থেকেই শহরজুড়ে থাকছে একাধিক চোখধাঁধানো কর্মসূচি। বিশ্বমানের এই উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে এখন থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে।

কী কী থাকছে মহালয়ার বিশেষ সূচিতে? সূত্রের খবর, মহালয়ার ভোরে গঙ্গার পাঁচটি প্রধান ঘাট থেকে একসঙ্গে বেজে উঠবে সনাতনী মহিষাসুরমর্দিনী। তার সঙ্গে সেজে উঠবে ঘাটগুলিও। এরপর বেলার দিকে রেড রোডে একটি বিশেষ রোড শো করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

তবে এই পুরোদিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মূল অনুষ্ঠানটি হতে চলেছে বিকেলে ইডেন গার্ডেন্সে। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলা বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর মাতৃপ্রতিমায় চক্ষুদান করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি কলকাতার পাঁচটি হেভিওয়েট ও নামী দুর্গাপুজোর ভার্চুয়াল বা প্রথাগত উদ্বোধন করবেন। এই তালিকায় রয়েছে সুরুচি সংঘ, শ্রীভূমি স্পোর্টিং, চেতলা অগ্রণী, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। পুজো উদ্বোধনের পাশাপাশি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ ভাষণও দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আকর্ষণীয় থ্রি-ডি (3D) ম্যাপিং প্রদর্শনী, জমকালো ড্রোন শো এবং বর্ণাঢ্য আতশবাজির রোশনাইয়ে কেঁপে উঠবে ইডেন চত্বর।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার অভিনব উদ্যোগ ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত এই উমা বরণ পর্বকে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন করে তুলতে একসঙ্গে ৩০০০ ঢাকির এক মেগা পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। একসঙ্গে তিন হাজার ঢাকের বাদ্যিতে শহর কলকাতার আকাশ-বাতাস মুখরিত করার এই অভিনব আয়োজনকে একটি বিশ্বরেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত করারও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ইডেনের এই মূল অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রবেশাধিকারের জন্য কোনো টিকিট বা উন্মুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শুধুমাত্র বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিরাই সেখানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ যাতে এই মহোৎসবের কোনো অংশ হাতছাড়া না করেন, তার জন্য রেড রোডে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেড রোডে বড় আকারের জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হচ্ছে, যেখান থেকে ইডেনের পুরো অনুষ্ঠানটির সরাসরি সম্প্রচার দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। সবমিলিয়ে, মহালয়ার পুণ্যলগ্নে এই মেগা ইভেন্ট যে কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।