৫২টি হিন্দু পরিবারকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা! ‘জনতার দরবার’-এ উঠে এল বিস্ফোরক অভিযোগ!

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির ১৩তম দিনেও সল্টলেকের বিজেপি দফতরে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তথা ভিনরাজ্য থেকেও নিজেদের নানা অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে সেখানে হাজির হয়েছেন সাধারণ মানুষ। জমি সংক্রান্ত জটিল জবরদখলের অভিযোগ থেকে শুরু করে জনজাতি পরিবারগুলির ধর্মান্তকরণের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
পাঞ্জাবের বাসিন্দা সুরেন্দ্র কুমার ও জগসির সিং বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, তাঁদের পূর্বপুরুষরা কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন এবং শহরে তাঁদের পৈতৃক জমিও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার যোগসাজশে সেই বহুমূল্য জমি জবরদখল করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বারবার দরবার করেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত সমস্ত আশা ভরসা হারিয়ে সুদূর পাঞ্জাব থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ ছুটে এসেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, অসমের একটি সংস্থার প্রতিনিধিরাও একইভাবে জমি জবরদখলের অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। তাঁদের দাবি, কৈলান এলাকায় তাঁদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রায় ২৩০ বিঘা জমি দখলের মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়েছে। এক্ষেত্রেও স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, তৎকালীন সরকারের আমলেও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছেন তাঁরা।
পাশাপাশি, আলিপুরদুয়ারের শামুকখোলা এলাকার রাভা জনজাতির কয়েকটি পরিবারের পক্ষ থেকেও ধর্মান্তকরণের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫২টি হিন্দু পরিবারকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও ৪৮টি পরিবারের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। নিজেদের বহুমূল্য ধর্মীয় পরিচয় ও অস্তিত্ব রক্ষা করার আকুল আর্জি নিয়ে তাঁরাও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছেন। যদিও এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ‘জনতার দরবার’-এ জমা পড়া এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।