‘মা, ওরা আমায় মেরে ফেলবে…’ গভীর রাতে মায়ের ফোনের পরই হোমস্টে থেকে উদ্ধার গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর দেহ!

অসমের উপকণ্ঠে এক হোমস্টে থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ওই ছাত্রীর এক বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ঘটনার দিন গভীর রাতে নিজের মাকে ফোন করে তরুণী আর্তনাদ করে বলেছিলেন, ‘মা, ওরা আমায় মেরে ফেলবে’। এরপর আর কিছু বলার আগেই ফোন কেটে গিয়েছিল। এবার মৃত ছাত্রীর বাবার করা এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে গোটা রাজ্যে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, খুনের আগে তাঁর মেয়েকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটি শহরের অদূরে গরল এলাকার একটি হোম স্টে থেকে ২২ বছর বয়সি ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই ঘটনায় মৃতার ২৬ বছর বয়সি প্রেমিককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ছাত্রীর বাবার দাবি, তাঁর মেয়ের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং খুনের আগে তরুণীকে শারীরিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। এরপর রাত ১০টা নাগাদ তিনি তাঁর মাকে ফোন করে জানান যে, ফেরার অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে এক বন্ধুর সঙ্গেই রাত কাটাচ্ছেন। কিন্তু আসল ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গভীর রাতে।
মৃতার বাবার কথায়, ‘‘রাত দুটো নাগাদ ও মায়ের নম্বরে ফোন করেছিল। অত্যন্ত ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেছিল যে ওকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। এই কথা বলতে বলতেই ফোন কেটে যায়। আমার মেয়েকে খুন করার আগে জঘন্য কায়দায় গণধর্ষণ করা হয়েছে।’’ পাশাপাশি, মৃতার বাবার আরও অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং তরুণীর শরীরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে মৃত্যুর আগে তাঁর উপর চরম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত জোরালো করা হয়েছে এবং ধৃতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে পরিবার।