আমেরিকা-চিন সম্পর্কে বরফ গলছে? হোয়াইট হাউসের কূটনীতির মাঝেই মার্কিন মুলুকে পা রাখল দুই বিশেষ অতিথি!

প্রতীকী গুরুত্ব থাকলেও বড় কোনও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়া ওয়াশিংটন সম্মেলনের পর এবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে বড় পদক্ষেপ করল চিন। বেজিংয়ের তরফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে ‘পিং পিং’ ও ‘ফু সুয়াং’ নামের দুটি আকর্ষণীয় জায়ান্ট পান্ডা। বেজিং জানিয়েছে, পান্ডা দুটি পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে মার্কিন মুলুকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের সফর চলাকালেই গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সাদা-কালো রঙের এই স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলি বিশ্বজুড়ে বরাবরই অত্যন্ত জনপ্রিয়। মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সৌহার্দ্য জোরদার করতে ‘পান্ডা কূটনীতি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই চিন বিশ্বের নানা প্রান্তে পান্ডা ধার দিয়ে থাকে। চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোর ৩টের সময় একটি বিশেষ বিমানে করে চেংদু সুয়াংলিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা হয় পিং পিং ও ফু সুয়াং।

গ্লোবাল টাইমসের তথ্য বলছে, ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রাপথে পান্ডাগুলির পুষ্টির কথা মাথায় রেখে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের খাদ্যতালিকায় রাখা হয় সেদ্ধ করা ভুট্টার রুটি, বাঁশের কচি ডগা এবং সতেজ গাজর। একটি বেসরকারি ক্যুরিয়ার সংস্থার সহায়তায় বোয়িং ৭৭৭ বিমানে করে আলাস্কার কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার পর সেখান থেকে তাদের আটলান্টার একটি নির্দিষ্ট চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হবে। আগামী ১০ বছরের জন্য এই দুই জায়ান্ট পান্ডার নতুন ঠিকানা হতে চলেছে ওই মার্কিন চিড়িয়াখানা।

মার্কিন মুলুকে পাঠানোর আগে জায়ান্ট পান্ডা প্রজনন বিষয়ক চেংদু গবেষণা কেন্দ্রের তরফে একটি বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই দুই বিশেষ অতিথিকে বরণ করতে আগে থেকেই সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছে আটলান্টা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। পান্ডাগুলির বসবাসের জায়গা সংস্কারের পাশাপাশি তাদের নিখুঁত পরিচর্যার জন্য একটি বিশেষ দলও গঠন করা হয়েছে। এমনকি চেংদুর আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সেখানে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের জন্য বাঁশ চাষের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে টানা ২৫ বছর ধরে আটলান্টার এই চিড়িয়াখানায় চিনের লোন নেওয়া পান্ডাদের রাখা হলেও ২০২৪ সালের পর থেকে সেখানে আর কোনও পান্ডা ছিল না। চলতি পাঠানো এই দুটি পান্ডার জন্ম হয়েছিল ২০২০ সালে। এর মধ্যে পুরুষ পান্ডা পিং পিংয়ের বয়স ৬ বছর এবং স্ত্রী পান্ডা ফু সুয়াং আগামী মাসেই ৬ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। সাধারণত চিনের এই জায়ান্ট পান্ডাগুলি ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চিন সফরের সময় থেকেই বেজিংয়ের এই ‘পান্ডা কূটনীতি’র সূচনা হয়েছিল, যা আজও দুই দেশের সম্পর্কে এক বিশেষ কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে।