‘শুভেন্দুর নাম করিনি,’ পুলিশি ক্ষোভে মেজাজ হারিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যের পর সাফাই হুমায়ূনের

রাজনীতিতে বিতর্ক যেন নিত্যদিনের সঙ্গী, আর সেই তালিকায় এবার নতুন করে নাম জুড়ল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের। রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে চরম বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন তিনি। তবে সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ঝড় উঠতেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো ইউ-টার্ন নেন এই রাজনীতিক।
ঠিক কী বলেছিলেন হুমায়ুন?
রবিবার সকালে এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং দলীয় কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলছেন তিনি। এদিনের বৈঠকে পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলতে গিয়ে তিনি এমন এক মন্তব্য করে বসেন যা নিয়ে মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায়।
হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, যেভাবে রাতের অন্ধকারে পুলিশ দিয়ে দলীয় কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তিনি আল্লার কাছে প্রার্থনা করবেন যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি যত দ্রুত সম্ভব পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এবং আল্লা যেন তাঁর টিকিট কাটিয়ে দেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। অভিযোগ ওঠে, প্রচ্ছন্নভাবে মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করা হয়েছে।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল ও ইউ-টার্ন
নিজের মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আর বেশিক্ষণ অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি AJUP প্রধান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের আগের বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণ সরে আসেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন দাবি করেন, তিনি শুভেন্দুর নাম করে ওই মন্তব্য করেননি। তাঁর মূল ক্ষোভ ছিল পুলিশের নিরপেক্ষতা এবং অতিরিক্ত বাড়বাড়ন্তের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, নিজের আগের মন্তব্য সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিয়ে তিনি উল্টো সুর গোন। শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী যেন নিজের পুরো মেয়াদ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি এও যোগ করেন যে, তিনি শুভেন্দুকে আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান।
ক্ষোভের আসল কারণ কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। প্রচারে বাধা দেওয়া, দলীয় কর্মীদের বিনা কারণে গ্রেফতার করা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব রয়েছেন হুমায়ুন। এদিনের বৈঠকে তাঁর ক্ষোভ মূলত পুলিশের ভূমিকার ওপর থাকলেও ভাষা প্রয়োগের জেরে তা ভিন্ন মোড় নেয়।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
হুমায়ুনের এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং ইউ-টার্ন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, বাংলার রাজনীতিকে একটি নির্দিষ্ট কদর্য স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং এই ধরনের মন্তব্য তারই ফল। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে কারও মৃত্যু কামনা করা কোনোভাবেই শোভনীয় নয়।
নির্বাচনের আগে এই ধরণের মন্তব্য এবং পরবর্তীতে তা নিয়ে সাফাই দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।