গর্ভস্থ শিশুও স্বতন্ত্র ‘ব্যক্তি’! দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পৃথক ক্ষতিপূরণ নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের!

মাতৃগর্ভে থাকা সন্তান শরীরের কেবল কোনও অংশমাত্র নয়, বরং পাঁচ মাস পার হলেই সে আইনের চোখে একজন ‘স্বাধীন ব্যক্তি’। তাই কোনও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হলে, তা কোনওভাবেই মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যাবে না। পরিবারকে অবশ্যই সন্তানের অকালমৃত্যুর জন্য পৃথক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক ও মানবিক রায়ে এমনটাই স্পষ্ট করে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছেন যে, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ বা পাঁচ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর একটি ভ্রূণ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে শুরু করে। এই সময়ের পরে দুর্ঘটনায় তার প্রাণহানি ঘটলে আইনিভাবে সেটি একটি স্বাধীন জীবনের ক্ষতি বলেই গণ্য হবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মায়ের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অনাগত সন্তানের জন্যও আলাদা ক্ষতিপূরণ দাবি করার সম্পূর্ণ অধিকারী।

পুরানো রায় খারিজ করে নির্দেশ আদালতের

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত লখনউয়ের রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের একটি পুরনো রায় খারিজ করে দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সেই নির্দেশকে রদ করে উচ্চ আদালত রেল কর্তৃপক্ষকে অনাগত শিশুর মৃত্যুর জন্য পরিবারটিকে অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের এই রায় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

২০১৭ সালের ১৩ জুন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী তাঁর দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জন সাধারণ এক্সপ্রেসে সীতাপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিসওয়ান যাচ্ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছনোর পর ট্রেন থেকে নামার সময় আচমকাই তিনি পা পিছলে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। সে সময় তিনি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং এই দুর্ঘটনায় তাঁর পেটের সন্তানটিরও মৃত্যু হয়।

পরবর্তীকালে নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণের দাবিতে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল রেলের পুরনো নিয়ম উল্লেখ করে সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, রেলের নিয়মে গর্ভস্থ ভ্রূণকে পৃথক ‘যাত্রী’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই, তাই আলাদা ক্ষতিপূরণও দেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাইব্যুনালের সেই অবস্থানকেই সম্পূর্ণ ভুল ও অমানবিক বলে আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।