মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে দেশবাসীকে বার্তা মোদীর! জনজাতি গণনা থেকে ৯/১১ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বড় বার্তা

আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে দেশ ও বিদেশের নাগরিকদের সঙ্গে তাঁর মূল্যবান চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। আজকের এই বিশেষ পর্বে তিনি দেশের চলমান জনগণনা, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে জরিপ কাজের অগ্রগতি, আমেরিকার ঐতিহাসিক ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী এবং ভারতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলির প্রসঙ্গ অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
দেশজুড়ে চলমান ব্যাপক জনগণনা প্রক্রিয়ার আপডেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বর্তমানে দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রথম ধাপের শুমারি প্রায় শেষের পথে। এখনও পর্যন্ত ৩ কোটি বা তার অধিক (সঠিক অর্থে ৩২ কোটি ছাড়িয়ে) পরিবারের বিস্তারিত তথ্য এই প্রক্রিয়ার আওতায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-कश्मीर এবং উত্তরাখণ্ডের মতো বরফাবৃত ও দুর্গম অঞ্চলেও এই জরিপ কাজ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। উত্তরাখণ্ডের চিমোলির প্রথম গ্রাম ‘মানা’ থেকে এই শুমারির সূচনা হয়েছিল এবং দেশের প্রায় ২.৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল পোর্টালে নিজেদের তথ্য নিজে থেকেই নথিভুক্ত করেছেন, যা এক নতুন ডিজিটাল বিপ্লবের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে নেশার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ বার্তা দেন এবং যুবসমাজকে নেশামুক্ত জীবন গড়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করে তিনি ওয়াশিংটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জানান যে সেদিনের সেই মর্মান্তিক ঘটনায় আমেরিকার পরেই সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। অতীতে দেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া ২০০৮ সালের দিল্লি ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং মুম্বইয়ের ২৬/১১ হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৎকালীন পরিস্থিতি ও নিষ্ক্রিয়তার কথা স্মরণ করান।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র বরদাস্ত না করার নীতি নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। এরই প্রেক্ষিতে তিনি ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা স্মরণ করেন, যেখানে ভারতীয় জওয়ানরা লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) পার হয়ে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করেছিল। এই সাহসী পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির এক নতুন ও শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।