মুম্বইয়ের রাস্তায় সারিসারি ট্যাক্সি দাঁড় করানো, কিন্তু ড্রাইভার উধাও! দেব আনন্দের কোন জাদুতে সেদিন স্তব্ধ হয়েছিল শহর?

তারকাদের নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার গল্প বলিউডে বহু শুনেছেন, কিন্তু এই ঘটনা যেন রূপকথাকেও হার মানায়! মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় সার সার ট্যাক্সি পার্ক করা, কিন্তু কোনও গাড়িতেই ড্রাইভার নেই। কারণ? শহরের সমস্ত ট্যাক্সি চালক তখন গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে ভিড় জমিয়েছেন প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে! পর্দা জুড়ে তখন রাজত্ব করছেন তাঁদের প্রিয় ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’— দেব আনন্দ।

নিজের আত্মজীবনী ‘রোমান্সিং উইথ লাইফ’-এ দেব আনন্দ নিজেই উন্মোচন করেছেন তাঁর জীবনের এই অভাবনীয় অধ্যায়। ১৯৫৪ সালের কালজয়ী ছবি ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’। দেব আনন্দ, কল্পনা কার্তিক এবং শীলা রমানি অভিনীত এই ছবিটি মুক্তি পেতেই মুম্বই শহরে তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। দেব আনন্দকে নিজেদের ঘরের লোক মনে করে ছবি দেখতে সিনেমা হলে ভিড় জমিয়েছিলেন শহরের প্রায় সমস্ত ট্যাক্সি চালক। এমনকি তাঁদের ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পর্যন্ত ঢুকে গিয়েছিলেন প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছিল— সেদিন মুম্বইয়ের রাস্তা থেকে আক্ষরিক অর্থেই উধাও হয়ে গিয়েছিল সমস্ত ট্যাক্সি!

তবে এই কালজয়ী ছবির নেপথ্যের গল্পটি কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯৫১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাগি’ ছবির সাফল্যের পর দেব আনন্দের প্রযোজনা সংস্থায় আর্থিক টানাটানির মেঘ জমেছিল। দেব আনন্দের বড় ভাই চেতন আনন্দ বেশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, কারণ তাঁর একের পর এক ছবি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় ‘নবকেতন ব্যানার’-এর ভাগ্য ফেরাতে এক হিট সিনেমার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।

রেকর্ডিং স্টুডিওতে এক পুরনো বন্ধুর পরামর্শেই শেষ পর্যন্ত ট্যাক্সি চালকের চরিত্রে অভিনয় করার কথা ভাবেন দেব আনন্দ। আর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই রাতারাতি বদলে দিয়েছিল সব কিছু। বিশেষ করে, এই ছবিটির হাত ধরেই হিন্দি চিত্রনাট্যকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল দেব আনন্দের ছোট ভাই বিজয় ‘গোল্ডি’ আনন্দের, যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হয়ে রয়েছে।