কোটি টাকার রাস্তা যেন বালির বাঁধ! বারবার ফাটল ও ধস নামায় কাঠগড়ায় এনএইচএআই ও নির্মাণ সংস্থা

বিহারের ভাগলপুরে ৪০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মান উচ্চাভিলাষী মুঙ্গেড়-মির্জাচৌকি গ্রিনফিল্ড ফোরলেন সড়কের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে ফের একবার চরম প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। আকবরনগর-শাহকুণ্ডের গঙ্গাপুর এলাকার কাছে নির্মাণাধীন এই ফোরলেন সড়কের ওপর প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ২ ইঞ্চি চওড়া একটি বিশাল ফাটল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যস্ততম সড়কে এ নিয়ে মোট তিনবার এই ধরনের বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিল। বারবার এই একই ধরণের মারাত্মক ত্রুটি সামনে আসায় নির্মাণ কাজের প্রযুক্তিগত মান, তদারকি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র জনরোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মুঙ্গেড় থেকে মির্জাচৌকি পর্যন্ত বিস্তৃত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনফিল্ড হাইওয়েটি মোট চারটি আলাদা প্যাকেজে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুসারে, সড়কের এই কাঠামোগত ত্রুটি বা ফাটলের অভিযোগগুলি মূলত ‘প্যাকেজ-২’ এর আওতাধীন অংশেই বারবার সামনে আসছে। যদিও এর আগে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই ধরনের সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে গঙ্গ নদীর বন্যা এবং জলের প্রবল চাপকে দায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ যে, নির্মাণ সংস্থার নিয়োজিত কর্মচারীরা এই বিপজ্জনক ফাটলটি জনসমক্ষে বা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজর এড়ানোর জন্য তার ওপর জুট বা চটের বস্তা চাপা দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিছুদিন আগেই মুঙ্গেড় থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত এই ফোরলেনের দুটি লেন আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক তার পরেই এমন ঘটনা ঘটায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার গাড়িচালক ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই রুটে সড়কের নিম্নমানের কাজ নিয়ে অতীতেও একাধিকবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। খাড়িয়া ও কঞ্জিয়া গ্রামের নিকটবর্তী অঞ্চলেও অতীতে সড়কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল। এমনকি গত বছর কঞ্জিয়া গ্রামের কাছে রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই অংশ কেটে নতুন করে কংক্রিট ঢালাই করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রবল বর্ষণে ফের ভেঙে যায়। এনএইচএআই (NHAI)-এর টেকনিক্যাল ম্যানেজার অভিনব কুমার এই প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, একটানা বৃষ্টির ফলেই এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক এই ফাটলের সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে এবং রাস্তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রমাণিত হলে তা পুনরায় ভেঙে নতুন করে ঢালাই করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।