‘ওরা আমায় মেরে ফেলবে!’ মাঝরাতে মাকে ফোন ছাত্রীর, তার পরেই হোম স্টেই থেকে উদ্ধার নিথর দেহ!

মাঝরাতে ভেসে এসেছিল মেয়ের আর্তনাদ— “ওরা আমায় মেরে ফেলবে!” কিন্তু সেই বাক্য শেষ করার আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সংযোগ। এর পর আর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি পরিবারের। অবশেষে মেলে মর্মান্তিক খবর। গুয়াহাটি শহরের একটি হোম স্টেই-এর ঘর থেকে উদ্ধার হলো গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সি এক ছাত্রীর রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনার নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছে অসম পুলিশ। ইতিমধ‌্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৬ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধৃত যুবকের প্রাথমিক দাবি, ওই তরুণী নিজে থেকেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশের দাবি, যুবকের এই বয়ানে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই তাদের। এটি আত্মহত্যার ঘটনা নাকি ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন— তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যে ঘর থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছে সেখানে কোনো রক্তের দাগ কিংবা ধস্তাধস্তির চিহ্ন মেলেনি।

ফোন কাড়ার চেষ্টা ও দুটি চাঞ্চল্যকর ক্লু: ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে। মৃত ছাত্রীর এক পারিবারিক বন্ধুর দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে ওই তরুণী পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে থাকছেন। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎই তিনি মাকে ফোন করে ভীতিপ্রদ গলায় বলেন, “ওরা আমায় মেরে ফেলবে!” পরিবারটির সন্দেহ, ওই কথা বলার পরেই সম্ভবত তরুণীর হাত থেকে ফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ খতিয়ে দেখছে— কার বা কাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তরুণী অমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন এবং কে তাঁর থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।

অন্য একটি তথ্যে জানা গিয়েছে, ওই হোম স্টেই-এর এক কেয়ারটেকার পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে তিনি ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির বিকট চিৎকার শুনতে পান। কোনো এক ব্যক্তি কাউকে ঘুম থেকে তোলার জন্য চিৎকার করছিলেন বলে দাবি কেয়ারটেকারের।

তদন্তে ধৃতের ভূমিকা ও পরিবারের বয়ান: কে কাকে ডাকছিলেন এবং কার ওপর অত রাতে চিল্লাচিল্লি করা হচ্ছিল, তা জানতে ধৃত যুবক ও হোম স্টেই-এর কর্মীদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃত যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর সুনির্দিষ্ট কী সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার দিন সেখানে আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে বড় কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছে অসম পুলিশ।