‘ছাত্রদের আন্দোলনে হাত দিলে বরদাস্ত নয়!’ পটনায় ল এনফোর্সমেন্টকে কড়া সতর্কবার্তা প্রধান বিচারপতির!

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের মৌলিক অধিকার রক্ষায় দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো কারণে যদি এই অধিকার লঙ্ঘিত হয় বা আন্দোলনের ওপর পুলিশি নৃশংসতার অভিযোগ ওঠে, তবে আদালত কখনই চোখ বন্ধ করে থাকবে না। শনিবার পটনার চাণক্য ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি (CNLU)-তে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সরাসরি আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে এইভাবেই কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওই মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধান বিচারপতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ব্যঙ্গাত্মক প্রচার, নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানীতে ছাত্র আন্দোলন এবং তার ওপর পুলিশি ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এক ছাত্রী সরাসরি প্রধান বিচারপতির কাছে প্রশ্ন তোলেন। তার জবাবে সিজেআই সূর্য কান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন যে, গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানসম্মত এবং তা রক্ষা করতে বিচার বিভাগ কোনো আপস করবে না।

কলেজিয়াম ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতার সীমা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য: আলোচনা সভায় অন্য এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন— হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কলেজিয়ামের অন্দরে হওয়া ভিন্নমত কেন প্রকাশ্যে আনা হয় না?

এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত বাস্তবমুখী যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য যতই ভালো হোক না কেন, ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন যেখানে জড়িত থাকে সেখানে স্বচ্ছতারও একটি নির্দিষ্ট সীমা রাখা জরুরি।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কলেজিয়ামের কার্যবিবরণীতে যদি কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনো মন্তব্য থাকে এবং তা যদি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে সমাজে নিজের মর্যাদা রক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাবেন? এর ফলে তিনি এক সামলানো কঠিন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

আইন শিক্ষার মেয়াদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: এদিনের অনুষ্ঠানে সিএনএলইউ-এর উপাচার্য তথা দেশের খ্যাতনামা আইনজ্ঞ ফৈজান মোস্তফা আইন শিক্ষার কাঠামো সংস্কারে এক অভিনব প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের সমন্বিত ল ডিগ্রির মেয়াদ বদলে চার বছরের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা এবং শেষ বছরটিতে বাধ্যতামূলক ‘আদালত-শিক্ষানবীশ’ (Court-Apprenticeship) পর্ব চালু করা হোক। এতে করে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সাপেক্ষেই ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা পাবেন এবং পৃথকভাবে এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত উঠে যাবে। সিজেআই এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও নতুন ভাবনার উদ্রেককারী হিসেবে প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের নালসার (NALSAR) এবং বেঙ্গালুরুর এনএলএসআইইউ (NLSIU)-তে সিজেআই-এর বিরুদ্ধে ঘটা সাম্প্রতিক বিতর্কের পর পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ভি কামেশ্বর রাওয়ের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি আইনি ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।