কার নির্দেশে নতুন এফআইআর? আরজি কর কাণ্ডে এবার খড়দা থানার আইসি-কে তলব হাইকোর্টের!

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের মামলায় এবার রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই যখন আদালতের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মূল ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে, তখন সেই একই ঘটনায় খড়দা থানা কীভাবে পৃথক এফআইআর করে তদন্ত শুরু করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল উচ্চ আদালত। কার নির্দেশে এই নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তা সশরীরে আদালতে এসে স্পষ্ট করার জন্য আগামী ১ অক্টোবর বেলা ২টোর সময় খড়দা থানার আইসি-কে তলব করেছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে বর্তমানে মামলাটির শুনানি চলছে। বেঞ্চের তরফে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়, একই ঘটনায় একসঙ্গে দুটি পৃথক তদন্তকারী সংস্থা কীভাবে সমান্তরাল তদন্ত চালাতে পারে?

হাইকোর্টের প্রশ্ন ও নতুন এফআইআরের তথ্য: আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও গত ১০ অগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় একটি নতুন এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। আদালতের প্রশ্ন, সিবিআই যেখানে নতুন করে সিট (SIT) গঠন করে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিচ্ছে, সেখানে খড়দা পুলিশ কার বা কাদের আদেশে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করল?

আদালতে মারাত্মক অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের: শুনানি চলাকালীন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা অত্যন্ত গুরুতর এক দাবি সামনে এনেছেন। অভিযোগ করা হয় যে, নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাকে বন্দুক ঠেকিয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি হুমকি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সেই রিভলবারটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।

মামলার পটভূমি ও বর্তমান জটিলতা: ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট ভোরে আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ। এর পরই তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা নিয়ে সরব হয়েছিলেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার, যেখানে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে, তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের ঘটনার তদন্তের প্রেক্ষিতে খড়দা থানায় সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে একদিকে সাক্ষীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ এবং অন্যদিকে পুলিশের সমান্তরাল তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে হাইকোর্ট অত্যন্ত কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছে। আগামী ১ অক্টোবর খড়দা থানার আইসি আদালতে হাজির হয়ে কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছে আইনি ও রাজনৈতিক মহল।