“আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব!”-শ্রীরামপুরে তোলপাড় করা হুঙ্কার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

শনিবার শ্রীরামপুরের এক বিশাল জনসভা থেকে কেন্দ্র সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলভাগের পর সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রথম এই সভা থেকেই রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে সুর চড়ান তিনি। একদিকে যেমন ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন, তেমনই অন্যদিকে ‘অন্যায়কারী’ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নাম তুলে সরাসরি তোপ দেগেছেন।
“বাংলা দখলের জন্যই SIR, বাদ পড়েছে ৯২ লক্ষ নাম”: শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে SIR করা হয়েছিল? তাঁর দাবি, “শুধুমাত্র জোর করে বাংলা দখল করার পরিকল্পনা থেকেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়, যার ফলে পরিকল্পিতভাবে ৯২ লক্ষ মানুষের নাম বাতিল করা হয়েছে। আমরা হেরে যাইনি, আমাদের চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমনই সব অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো! উনি এবং সীমা খান্না পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না। পুরনো SIR তালিকা ধরেই নতুন করে ভোট করতে হবে।” একইসঙ্গে সীমা খান্নার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের বিষয়টি প্রথম তাঁর দলই প্রকাশ্যে এনেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ ও রাজ্য সরকারের নীতিকে কড়া তোপ: সভায় বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা:
পুলিশি অত্যাচার: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় সবথেকে বেশি অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ।
হকার উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ: গরিব হকারদের রুজি-রোজগার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি জানান, হকারদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিজে আদালতে লড়াই করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: বর্তমান সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনাকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ভোটের আগে সবাইকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করানো হলো, আর এখন শর্ত চাপানো হচ্ছে। সাইকেল থাকলে ভাতা দেওয়া হবে না, অমুক থাকলে দেওয়া হবে না! আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো সকলে পেত।”
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘লাল’ জোটের ইঙ্গিত: এদিনের সভা থেকে জাতীয় রাজনীতির এক নতুন বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যে দলই এই ইস্যুতে লড়াইকে সমর্থন করবে, তারা ‘লাল’ নাকি ‘নীল’ তা দেখা হবে না—তৃণমূল তাদের পাশে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিপিআইএম (CPIM) নেতা এম এ বেবির সঙ্গে টেলিফোনিক কথোপকথনের পরদিনই মমতার মুখে ‘লাল’ শব্দের এই ব্যবহার অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আপনারা বাংলা দখল করেছেন, আমরা এবার দিল্লি নেব! চারিদিকে পরিবর্তনের ঝড় উঠেছে। মুম্বই, দিল্লিতে যেমন ঝড় উঠেছে, তোমাদের ঘরের মধ্যেও সেই ঝড় এসেছে। চেয়ারের মোহ আমাদের নেই, আমরা জনগণের চেয়ারে বিশ্বাসী। গ্রেফতার হতে ভয় পাবেন না, মুখ খুলুন, ঐক্যবদ্ধ হোন।”