SIR-এ নাম কাটা গিয়েছে? নির্বাচন কমিশনের এক ঘোষণাতেই ঘুরল খেলা! সাধারণ মানুষের জন্য বিরাট স্বস্তি

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা ঘিরে যখন সারা দেশে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই আসরে নামল নির্বাচন কমিশন। শনিবার এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেছিলেন দেশের তিন নির্বাচন কমিশনার। আর সেই বৈঠক থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বিতর্কের জবাব দিতে এসআইআর সংক্রান্ত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থমুখী সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হলো।

কমিশনের নতুন এই সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিরাট স্বস্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল বা ভুলবশত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আর শুনানি কেন্দ্র বা সরকারি কার্যালয়ে চক্কর কাটতে হবে না। এবার সরাসরি বিএলও-রা (BLO) নোটিশ প্রাপ্তদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র সংগ্রহ করবেন।

সংগৃহীত নথিগুলি বিএলও-রা কমিশনের নিজস্ব পোর্টাল ‘ECINET’-এ আপলোড করে দেবেন। পরবর্তীতে সেইসব নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে তালিকা সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO)। যাঁদের নাম কোনও কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরাও বিএলও-দের মাধ্যমে নতুন করে নাম তোলার আবেদন জানাতে পারবেন।

এর পাশাপাশি, কমিশন থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত নোটিশ হাতে পেলেও সাধারণ মানুষকে আপাতত কোনও মুখোমুখি শুনানিতে হাজির হতে হবে না। কেবল চরম ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া সব ধরনের শারীরিক শুনানি বন্ধ রাখা হচ্ছে; প্রয়োজন পড়লে সেই শুনানি হবে অনলাইনে।

অন্যদিকে, বিতর্কিত ‘ECINET’ পোর্টাল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠনের ঘোষণাও করেছে নির্বাচন কমিশন। একজন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার (DEC) এবং বিষয়াঙ্ক বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি পুরো বিষয়টি তদারকি করবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে ওঠা একাধিক প্রশ্নের মুখে তিন কমিশনারের একসঙ্গে বৈঠকে বসা এবং একজোটে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ—রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।