কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে রয়েছে এই ৪ দুর্দান্ত স্কিম, এক নজরে জেনেনিন কী কী?

কৃষি কাজ মানেই কেবল ভালো ফসলের ফলন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো অনিশ্চয়তা। কখনও চড়া দামে কিনতে হয় বীজ ও সার, কখনও আবার প্রতিকূল আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যায় সারা বছরের কষ্টার্জিত ফসল। এছাড়া সঠিক সময়ে ফসলের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় করাও অনেক কৃষকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে কেন্দ্র সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি শুধু কৃষিকাজ চালাতেই সাহায্য করে না, বরং ঋণ এবং বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। অন্নদাতাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এমন ৪টি প্রধান সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক—
১. পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)
চাষের মরসুমে বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য কৃষকদের অর্থের প্রয়োজন হয়। এই চাহিদা মেটাতে সবচেয়ে বড় ভরসা হলো প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প। এই ব্যবস্থার অধীনে দেশের যোগ্য কৃষকদের সরাসরি বার্ষিক ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে কেন্দ্র সরকার। এই পুরো টাকাটি ২,০০০ টাকা করে মোট তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। চাষের জরুরি খরচ মেটাতে এই অর্থ দারুণ সহায়ক। এমনকি কিছু রাজ্য সরকার এর সঙ্গে নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত অনুদানও যুক্ত করে থাকে।
২. প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)
একজন কৃষকের জীবনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো তাঁর উৎপাদিত ফসল। প্রচুর পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করার পরেও বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি কিংবা পোকার আক্রমণের জেরে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়ে। সেই আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা খুব কম প্রিমিয়ামের বিনিময়ে নিজেদের ফসলের বিমা করাতে পারেন। নিয়ম ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনা করে বিমার মাধ্যমে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, যা আকস্মিক বিপর্যয়ে কৃষকের বড় আর্থিক বোঝা লাঘব করে।
৩. পিএম কিষাণ মানধন যোজনা (PM-KMY)
কৃষিকাজের বাইরেও বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন বহু কৃষক। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই আনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা। এই প্রকল্পে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। বয়সের ওপর ভিত্তি করে কৃষকদের একটি নির্দিষ্ট মাসিক চাঁদা দিতে হয়। এর ফলে বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে নিশ্চিত পেনশন পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে বার্ধক্যের দিনেও কৃষকদের একটি স্থিতিশীল আর্থিক আয়ের সংস্থান হয়।
৪. কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC)
বীজ বোনার ঠিক আগে প্রায়শই নগদ টাকার সংকটে পড়েন কৃষকরা, যা সময়মতো জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার মুশকিল আসান করতে পারে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC)। এর মাধ্যমে কৃষকরা অত্যন্ত সহজে চাষাবাদ এবং তৎসংলগ্ন নানা কাজের জন্য সরাসরি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারেন। ফসলের প্রয়োজন ছাড়াও পশুপালন বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্যও এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা মেলে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে ঋণের সুদেও বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়। ফলে চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে এবং কৃষকরা অনেকটাই স্বস্তি পান।
সামগ্রিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, এই চারটি প্রকল্প কৃষকদের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা পূরণ করে। পিএম-কিষাণ প্রাথমিক খরচে সাহায্য করে, ফসল বিমা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমায়, কিষাণ মানধন বার্ধক্যের নিরাপত্তা দেয় এবং কিষাণ ক্রেডিট কার্ড কৃষির ঋণের চাহিদা মেটায়।