বিশ্বের নজর ভারতের চিপ মিশনে! ১৭ সেপ্টেম্বর দ্বারকার যশোভূমিতে সেমিকন ইন্ডিয়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর দিল্লির দ্বারকার যশোভূমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে মেগা টেক ইভেন্ট ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলির প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক এবং প্রযুক্তি শিল্পের দিকপালরা অংশ নেবেন। ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নতির জেরে এই সম্মেলনের দিকেই এখন তাকিয়ে পুরো বিশ্ব।
গত কয়েক বছরে দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাত যেভাবে দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে, তারই এক সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হবে এই মঞ্চে। প্রায় এক দশক আগেও ভারতে চিপ উৎপাদন ভিত্তি অত্যন্ত সীমিত থাকলেও, বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপে ভারতকে গ্লোবাল চিপ হাব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেই লক্ষ্যেই সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-কে নিছক একটি প্রযুক্তি সম্মেলন না ভেবে, দেশের উদীয়মান ইলেকট্রনিক্স ইকোসিস্টেমের প্রধান প্রদর্শনী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবছরের মূল থিম এবং বিশ্বজুড়ে অংশগ্রহণ
এবারের সেমিকন ইন্ডিয়ার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো—”সিলিকন থেকে সিস্টেম: সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম নির্মাণ”। অর্থাৎ, ভারতের ফোকাস এখন কেবল চিপ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং চিপ ডিজাইন থেকে শুরু করে উৎপাদন, প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে জড়িত সমস্ত সহায়ক শিল্প ভারতেই গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইনকে মজবুত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে প্রায় ৩০০টি বিদেশি সংস্থাসহ মোট ৬০০টিরও বেশি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। ১৫,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই আয়োজনে থাকছে ছয়টি দেশ, ১২টি রাজ্য এবং প্রায় ৪০টি স্টার্টআপের প্যাভিলিয়ন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করতে স্টুডেন্ট হ্যাকাথন, কর্মশক্তি উন্নয়ন প্যাভিলিয়ন এবং বিশেষ নারী ফোরামের মতো আকর্ষণীয় আয়োজনও রাখা হয়েছে।
উৎপাদনের রমরমা ও বিনিয়োগের চিত্র
সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এর প্রাক্কালে দেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতের অগ্রগতির কিছু তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ:
বিশাল উল্লম্ফন: দেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ২০১৪-১৫ সালের ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা থেকে লাফিয়ে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ১৩.১১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রকল্প রূপায়ন: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ১২টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্ল্যান্টে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি: দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তুলতে ‘চিপস টু স্টার্টআপ’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৬৮,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।