ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিমি গতি! ফেসবুক লাইভ করতেই চোখের নিমেষে শেষ তরুণ, টঙ্কের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য

গতি যে কতটা মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে, রাজস্থানের টঙ্ক জেলায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তার ফের এক চরম নিদর্শন রাখল। ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি ছোটানোর সময় একটি ডাম্পার ট্রাকে সজোরে ধাক্কা লেগে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মৃত্যুর ঠিক আগেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গাড়ির সেই ভয়াবহ গতির দৃশ্য লাইভস্ট্রিম করেছিলেন ওই চালক। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে শোরগোল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রাজারাম জাট (৪১), যিনি মালপুরার তোরদি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি গাড়ি নিয়ে দেওলি থেকে টোঙ্কের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই পথেই দুনি থানা এলাকার পলিআদার কাছে মহাসড়কে পার্ক করা একটি ডাম্পার ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁর দ্রুতগতির গাড়িটি।

ফেসবুক লাইভেই ধরা পড়ল মর্মান্তিক পরিণতি

যাত্রাপথে রাজারাম নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে গাড়ি চালানোর একটি লাইভ ভিডিও শুরু করেছিলেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির ক্যামেরাটি স্পিডোমিটারের দিকে তাক করা রয়েছে। প্রথমে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকলেও, মুহূর্তের মধ্যে তা বেড়ে গিয়ে প্রায় ১৯৭ থেকে ১৯৮ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ঠিক এর পরেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারটির সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাজারামের। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

অতিরিক্ত গতির নেশা যে কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। মহাসড়কে এমন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যে কতটা বিপজ্জনক, তা জেনেও অসচেতনতার কারণে ঝরে গেল একটি প্রাণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই শেষ লাইভ ভিডিওটি এখন কেবলই এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলেছে মৃতের পরিবারের জন্য।