২২ বছর পর ছেলের কাছে পড়েই বাজিমাত! বাকপ্রতিবন্ধী মায়ের কাণ্ড দেখলে চোখ কপালে উঠবে

বলা হয়ে থাকে, পড়াশোনা এবং নতুন কিছু শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা হয় না। জম্মু ও কাশ্মীরের ৪৫ বছর বয়সী রেনু হংস এবার সেই প্রবাদকেই একপ্রকার সত্যি প্রমাণ করে দেখালেন। জন্মসূত্রে কথা বলতে বা শুনতে অক্ষম হওয়ায় এবং পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা প্রতিকূলতার জেরে আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। অতীতে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তাঁর শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল। তবে মনের জোর এতটুকুও হারাননি তিনি। দীর্ঘ দুই দশক পর ফের ঘুরে দাঁড়িয়ে জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন (JKBOSE)-এর দ্বিবার্ষিক দশম শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নেন রেনু এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে তাক লাগিয়ে দিয়ে ৮২% নম্বর অর্জন করেন।

ছেলের হাতেখড়িতেই জয়যাত্রা

রেনুর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যে নেপথ্য কারিগর হিসেবে পাশে ছিলেন তাঁর নিজের ছেলেই। নমন কৌল নামের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্র একদিকে যেমন নিজের পড়াশোনা সামলেছে, তেমনই পরম যত্নে মাকে পড়াশোনায় সাহায্য করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাকে পড়ানো, কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে বোঝানো এবং সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেওয়ার কাজটি নিখুঁতভাবে করেছে নমন। মা-ছেলের এই যৌথ লড়াই এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলেই শেষ পর্যন্ত সুদিন এসেছে পরিবারে।

আইনি জটিলতা কাটিয়ে সফল লড়াই

বোর্ড পরীক্ষায় পুনরায় বসার প্রক্রিয়াটি রেনুর জন্য এতটাও সহজ ছিল না। দীর্ঘবিরতির পর কীভাবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন হবে, তা নিয়ে প্রথমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এমনকি জেকেবিওএসই (JKBOSE) অফিসে যোগাযোগ করা হলে প্রাথমিক আইনি জটিলতার কথা জানানো হয়। কিন্তু হাল না ছেড়ে নমন ও তাঁর পরিবার লড়াই চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা কাটিয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান রেনু। পরীক্ষার দিন শুরুতে খানিকটা উদ্বিগ্ন থাকলেও পরীক্ষার হলে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। ১০ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত ফল প্রমাণ করে দিল, ইচ্ছেশক্তি থাকলে বয়সের গণ্ডি কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনওই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।