ঝাড়খণ্ডে বাতিল হওয়া চাকরি নিয়ে বড় স্বস্তি! হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে হাইভোল্টেজ নাটক

ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরি বাতিল করার প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি জটলের মধ্যে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও কর্মরত প্রার্থীরা বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেলেন। মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকার কর্তৃক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তের ওপর পূর্বঘোষিত স্থগিতাদেশ বা স্টে (Stay) বহাল রেখেছে। বিচারপতি দীপক রেশনের একক বেঞ্চে জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL), ১১তম থেকে ১৩তম জেইউপিএসসি (JPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, সিডিপিও (CDPO) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সরকারি দপ্তরে চাকরি পেয়ে কর্মরত প্রার্থীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত রাজ্য সরকারকে জবাব দাখিলের জন্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতের কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানান। কিন্তু আদালত বিষয়টিকে সরাসরি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে দীর্ঘ সময় দিতে পরিষ্কার অস্বীকার করে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের সমস্ত তথ্য ও জবাব আদালতে জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ঝাড়খণ্ড লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেপিসি এবং জেএসএসসি-র একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে একটানা ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভ চলেছিল। এরপর গত ১৭ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এক মেগা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২২টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাতিল করার, ৬টি পরীক্ষা স্থগিত রাখার এবং ১৭টি পরীক্ষার সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে এর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়।

সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে জেএসএসসি-সিজিএল, ১১তম থেকে ১৩তম জেপিসি, সিডিপিও এবং ফুড সেফটি অফিসারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই নির্বাচিত ও কর্মরত হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নিজেদের চাকরি ও আইনি অধিকার রক্ষা করতে দ্রুত হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। গত ২০ আগস্ট হাইকোর্ট প্রথম দফায় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখায় আপাতত বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এখন সমস্ত মহলের নজর রয়েছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে, যেখানে আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে হাজার হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ।