পুজোর আগেই বাম্পার ছুটি! একটানা ২ দিন ছুটি ঘোষণা রাজ্য সরকারের, জানুন খুশির খবর

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষ হওয়ার পথে এবং বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আকাশে-বাতাসে ইতিমধ্যেই পুজোর গন্ধ এবং উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে উৎসবের দিনগুলি এখনও কিছুটা দূরে থাকায় বর্তমানে স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারি এবং দৈনন্দিন রুটিন পুরোদমে চলছে। বিশ্বকর্মা পুজো ছাড়া এই মুহূর্তে সেপ্টেম্বর মাসে বড় কোনো সরকারি ছুটি না থাকলেও, অক্টোবর মাসের শুরুতেই রাজ্যবাসীর জন্য এক দুর্দান্ত খবর সামনে এসেছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই টানা ছুটির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিস্তারিত জানিয়েছে রাজ্য অর্থ দফতর।
আগামী অক্টোবর মাসের ৬ তারিখে রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র— রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য এবং ভোটের কাজে নিযুক্ত থাকা সমস্ত সরকারি অফিসার, আধিকারিক, বুথ কর্মী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ওই দিন বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য অর্থ দফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার সমস্ত সরকারি কার্যালয়, বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, নিগম, বোর্ড, বিধিবদ্ধ ও স্থানীয় সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’-এর ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি ছুটি বলবৎ থাকবে।
নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ভোটের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অত্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হতে এবং ইভিএম বা অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম জমা দিতে গভীর রাত পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এর ফলে পরের দিন সকালে কর্মীদের পক্ষে সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দেওয়া এবং শারীরিক ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে এবং কর্মীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভোটের পরের দিন অর্থাৎ ৭ অক্টোবরও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটি মঞ্জুর করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, আগামী ৬ ও ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলিতে মোট দুদিন ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন কর্মীরা।
এছাড়াও, রাজ্য সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে সমস্ত সরকারি কার্যালয়, স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরাসরি ভোটকেন্দ্র, সেক্টর অফিস কিংবা নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ ও গ্রহণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও আগে ছুটি শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের সরঞ্জাম পাঠানোর দিন অর্থাৎ ৫ অক্টোবরও স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করতে পারে। ফলে উৎসবের আনন্দ শুরুর আগেই ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য টানা ছুটির একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে অক্টোবর মাসের শুরুতেই এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যখন পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই রাজনৈতিক দলগুলি তাদের প্রস্তুতি তুঙ্গে তুলেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম আসন এবং হুমায়ুন কবিরের ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর কেন্দ্র— উভয় আসনেই রাজনৈতিক লড়াই অত্যন্ত জমজমাট হতে চলেছে। পুজোর উৎসবের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখন থেকেই সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ ও কর্মচারীদের জন্যও এই ছুটি বাড়তি স্বস্তি নিয়ে এসেছে।